ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চলমান যুদ্ধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এ যোগাযোগ কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা নয়। গত মঙ্গলবার আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, ‘আমি আগের মতোই সরাসরি উইটকফের কাছ থেকে বার্তা পাই। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, আমরা আলোচনায় আছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে কোনো পক্ষের আলোচনার দাবি সঠিক নয়। সব বার্তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আদান-প্রদান হয় এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যেও যোগাযোগ রয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা নেই: আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের অভিজ্ঞতা ভালো নয়। তিনি উল্লেখ করেন, বারাক ওবামার সময় করা পারমাণবিক চুক্তি থেকে ট্রাম্প সরে গিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ৯ মাসে দুবার আলোচনার সময়ই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে—একবার ২০২৫ সালের জুনে এবং আরেকবার বর্তমানে চলমান, যা ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়। তখন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওমান জানিয়েছিল, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতার কাছাকাছি। আরাগচির ভাষায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আমাদের কোনো বিশ্বাস নেই। বিশ্বাসের মাত্রা শূন্য। আমরা তাদের মধ্যে সততা দেখি না।’
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা: সাম্প্রতিক সময়ে আরাগচি ও উইটকফের মধ্যে যোগাযোগে পাকিস্তান সহায়তা করছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া পাকিস্তান সম্প্রতি সৌদি আরব, মিশর এবং তুরস্কের সঙ্গে বৈঠক করেছে, যাতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা যায়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এ বিষয়ে সমর্থন পেতে চীন সফরও করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক সম্ভব হয়নি।
হরমুজের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ করবে ইরান ও ওমান: সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যুদ্ধ শেষ হলে এই দুই দেশই এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। তবে তিনি বলেন, ‘এই প্রণালি শান্তিপূর্ণ জলপথ হওয়া উচিত।’ অন্যদিকে কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলো এ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিতে চায়। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যেসব দেশ যুদ্ধে জড়িত, তাদের জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ থাকছে। তবে অন্য দেশের জাহাজ চলাচল করতে পারছে।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও বীমা খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক জাহাজ এই পথ এড়িয়ে চলছে। তবে ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক ও চীনের কিছু জাহাজ এরই মধ্যে এই পথ ব্যবহার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল হামলা: যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে সেনা মোতায়েন বাড়িয়েছে। পাশাপাশি, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর সম্ভাব্য স্থল আক্রমণের পরিকল্পনা করছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে আরাগচি কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘আমরা তাদের জন্য অপেক্ষা করছি। তারা এমন সাহস দেখাবে বলে আমি মনে করি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা খুব ভালোভাবেই জানি কীভাবে নিজেদের রক্ষা করতে হয়। স্থল যুদ্ধে আমরা আরও ভালোভাবে প্রতিরোধ গড়তে পারব। আমরা যে কোনো আক্রমণ মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’ শেষে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা আশা করি তারা এমন ভুল করবে না।’
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। সরাসরি যোগাযোগ থাকলেও আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে সামরিক প্রস্তুতির বার্তা দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে উভয় পক্ষ।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব