রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগে সর্তক তৎপরতা শুরু করেছে বাংলাদেশ। চলতি মাসেই প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৮ এপ্রিল এ সফর অনুষ্ঠিত হবে।
সরকারি সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ১ জুন থেকে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ থেকে মালয়েশিয়া কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয়। তখন প্রায় ১৮ হাজার কর্মী শেষ মুহূর্তে যাওয়া থেকে বঞ্চিত হন। তাদের জমা দেওয়া প্রায় ৮০০ কোটি টাকা অনিশ্চয়তায় পড়ে। যদিও সরকার ও রিক্রুটিং এজেন্সি টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছে, অনেক শ্রমিক অভিযোগ করেছেন সম্পূর্ণ টাকা পাননি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শ্রমবাজার খোলার চেষ্টা করা হলেও তেমন সাড়া মেলেনি। ২০২৫ সালের নভেম্বরে আটকে পড়া কর্মীদের প্রথম ফ্লাইট মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়, তবে প্রক্রিয়াটি এখনও ধীরগতির। বর্তমানে ৭ হাজার ৮৭৩ জন কর্মীকে মালয়েশিয়ার নির্মাণ খাতে নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১৬ নভেম্বর থেকে এ বছরের ২৯ মার্চ পর্যন্ত ৮৮১ জন কর্মী ভিসা ও বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স পেয়েছেন।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্ক ও অভিযোগে গ্রস্থ। গত ১৬ বছরে তিনবার বাজার বন্ধ হয়েছে। প্রতিবারই শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগ ওঠে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানিয়েছে, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ১ হাজার ১২৮ কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার হয়েছে। এ সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মামলা বর্তমানে চলমান।
২০০৯ সালে প্রথমবার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়। এরপর ২০১৬ সালে পুনরায় খোলা হলেও ২০১৮ সালে আবার বন্ধ হয়। ২০২২ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে পুনরায় বাজার চালু হলেও নতুনভাবে চক্র গঠিত হয়। ২০২৪ সালের মার্চে মালয়েশিয়া আবারও বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া স্থগিত করে।
বাজার চালু করতে গত বছরের ১৩-১৬ মে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রবাসীকল্যাণ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী মালয়েশিয়া সফর করেন। সফরের সময় তারা স্বরাষ্ট্র ও মানবসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ সভায় অংশ নেন।
মালয়েশিয়ার সঙ্গে একাধিক বৈঠক হলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। বাংলাদেশ তিনটি শর্ত বাতিলের অনুরোধ জানিয়েছে, তবে এখনও মালয়েশিয়া কোনো সাড়া দেয়নি।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, শ্রমবাজার দীর্ঘদিন স্থবির থাকায় তা সচল করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, ২৯ মার্চ জনশক্তি রফতানিকারকরা সিন্ডিকেটমুক্ত শ্রমবাজারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। তারা দাবি করেছেন, বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে কোনো সিন্ডিকেটকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম