স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকার কেরানীগঞ্জে যে কারখানায় আজ শনিবার আগুন লেগে পাঁচজন পুড়ে মারা গেছে, সেখানে আরও দুবার আগুন লেগেছিল। সবশেষ প্রায় দুবছর আগে আগুন লাগে। প্রশাসন কারখানাটি বন্ধও করে দেয়। পরে আবারও কোন উপায়ে এটি চালু করা হয়েছে তা কেউ বলতে পারছেন না। শনিবার আগুন লাগার পর থেকে কারখানাটির মালিকও পালিয়ে গেছেন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা সোয়া একটার দিকে আগুনের খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থল কেরাণীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বর এলাকায় যায় ফায়ার সার্ভিসের অগ্নি নির্বাপন দল। সাতটি ইউনিটের প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানানো হয়েছে।
এলাকার লোকজন বলেন, কারখানাটিতে ৩৫ থেকে ৪০ জন কাজ করতেন। তবে অগ্নিকাণ্ডের পর ঠিক কতজন নিখোঁজ আছেন, তা এখনো কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।
ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ পর্যন্ত কারখানার ভেতর থেকে পাঁচজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ শ্রমিকদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, প্রায় দুই বছর আগে কারখানাটিতে একবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। পরে প্রশাসন সেটি বন্ধ করে দেয়। মাসখানেক পর ফের তারা কারখানার কার্যক্রম শুরু করে। কারখানাটিতে প্রায় ৪০ জন শ্রমিক কাজ করতেন। আজ শনিবার সকালে প্রতিদিনের মতো কারখানার শ্রমিকরা কাজ শুরু করেন। দুপুর দিকে হঠাৎ কারখানার ভেতর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। এরপর মুহূর্তের মধ্যে সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলার সহকারী ভূমি কমিশনার (এসিল্যান্ড) আফতাব আহমেদ শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, কেরানীগঞ্জের গ্যাস লাইটার কারখানাটিতে আগেও দুবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। পরে তদন্ত করে কারখানাটিকে সিলগালাও করা হয়। কিন্তু কবে আবার পুনরায় চালু করা হয়েছে, তা তিনি জানেন না।
কেরাণীগঞ্জের কদমতলীতে অগ্নিকাণ্ডের শিকার গ্যাস লাইটার তৈরির কারখানাটিতে আগুন নেভানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। শনিবার বিকেলে আগুণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের পর গণমাধ্যমকে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুড়ে যাওয়া কারখানা থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা গেলেও তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
নিহত পাঁচজনই কারখানাটিতে কর্মরত ছিল বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। তাদের মধ্যে কোনো নারী বা শিশু রয়েছেন কি না সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস বলছে, গ্যাস লাইটার তৈরির কারখানায় মুহূর্তেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। এই দুর্ঘটনায় কারখানাটির মালিকপক্ষের গাফিলতি ছিল বলেও মনে করে ফায়ার সার্ভিস।
ডিপজল গলি এলাকার বাসিন্দা রমিজ মিয়া বলেন, ‘ওপরে টিনশেড আর চারপাশে দেয়াল দিয়ে কারখানাটি তৈরি করা হয়েছে। এর ভেতরেই আটটি গুদাম ছিল। যেখানে গ্যাসলাইটারের কাঁচামাল রাখা হতো।’
কারখানাটির মালিক কেরানীগঞ্জের জিনজিরা এলাকার বাসিন্দা আকরাম মিয়া। আজ শনিবার আগুন লাগার পর থেকে তিনি পলাতক।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব