স্পোর্টস ডেস্ক: র্যাংকিং ও সামর্থ্যে বড় ব্যবধান থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবল দল। এশিয়ার শক্তিশালী দল চীনের বিপক্ষে প্রথমার্ধে গোলশূন্য থেকে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখলেও শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে হারতে হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।
শনিবার (৪ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের ননথাবুরি প্রোভিন্সিয়াল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় চীন। তবে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষক মিলি আক্তার ছিলেন দুর্ভেদ্য প্রাচীর। একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে দেন তিনি। নিয়মিত গোলরক্ষক রুপ্না চাকমার পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পেয়ে মিলি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন।
প্রথমার্ধে চীনের ধারাবাহিক আক্রমণ ঠেকিয়ে গোলশূন্য থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ছন্দ হারায় রক্ষণভাগ। ৪৬ মিনিটে ডান দিক থেকে আসা আক্রমণে চীনের মিডফিল্ডার ইউও গোল করে দলকে এগিয়ে দেন।
এরপর পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি বাংলাদেশ। ফরোয়ার্ড সাগরিকার কয়েকটি উদ্যোগ চীনের শক্তিশালী ডিফেন্সে থেমে যায়। ম্যাচের ৮২ মিনিটে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া ফ্রি-কিকে ওয়াং ব্যবধান দ্বিগুণ করলে চূড়ান্তভাবে ম্যাচ হাতছাড়া হয় বাংলাদেশের।
এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত সিনিয়র এশিয়ান কাপে একই ব্যবধানে চীনের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে সেদিন প্রথমার্ধেই দুই গোল করেছিল চীন, আর এবার দ্বিতীয়ার্ধে নিশ্চিত করে জয়।
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের লড়াকু পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে চীনের খেলোয়াড়রা। বাংলাদেশের ডাগআউটের সামনে এসে কুর্নিশ জানিয়ে সম্মান প্রদর্শন করে তারা।
টানা দুই ম্যাচে হারলেও বাংলাদেশের বিদায়ের পথ এখনো বন্ধ হয়নি। শূন্য পয়েন্ট ও -৩ গোল ব্যবধান নিয়ে গ্রুপে তৃতীয় হওয়ার সুযোগ রয়েছে দলের সামনে। আগামী ৭ এপ্রিল ভিয়েতনামের বিপক্ষে জয় বা ড্র করতে পারলে এবং অন্য ম্যাচের ফল অনুকূলে থাকলে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা থাকবে বাংলাদেশের।
ফুটবল সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ম্যাচে দেখানো লড়াকু মানসিকতা ভিয়েতনামের বিপক্ষে বাংলাদেশের মেয়েদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি