রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: জ্বালানি সংকটসহ বহুমাত্রিক বৈশ্বিক প্রভাবের কারণে দেশে ভবিষ্যতে দ্রব্যমূল্য বাড়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু জ্বালানি সংকটে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি খাদ্যসহ নানা খাতে প্রভাব ফেলছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে তুলছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক পরামর্শসভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। সভাটি আয়োজন করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, যেখানে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতাও ছিল।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার বর্তমানে অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখা ও পুনরুদ্ধারের এক কঠিন লড়াইয়ের মধ্যে রয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে দেশের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে সরকারি তহবিলেও। প্রতিনিয়ত এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দেশের ঋণ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ঋণ ব্যবস্থাপনা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। আগামী দিনে অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যয় এবং অর্থ সংগ্রহের খরচকে পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতির বেশিরভাগ সূচকই নিম্নমুখী ছিল। ফলে এখনো পুনরুদ্ধারের দৃশ্যমান ফল সামনে আসেনি। বর্তমান বাস্তবতায় অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। এখনো অনেক ক্ষেত্রে দেশে দাম সমন্বয় করা হয়নি, তবে দীর্ঘ সময় এভাবে চাপ ধরে রাখা সম্ভব নয় বলেও সতর্ক করেন তিনি।
বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই চাপ বহন করা সম্ভব না হলে এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই পড়বে।
এর আগে এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জাতীয় বহুপক্ষীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, জাতিসংঘ-এর আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমা এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম