স্টাফ রিপোর্টার: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে সরকারি ব্যয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে সরকার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের অংশ হিসেবে রোববার (৫ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে।
নতুন নির্দেশনায় সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সব ধরনের যানবাহন কেনায় বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়েও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
পরিপত্র অনুযায়ী, আপ্যায়ন ব্যয়ে অব্যয়িত অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় করা যাবে। তবে সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এ সীমাবদ্ধতা প্রযোজ্য হবে না।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ভ্রমণ খাতে ব্যয়েও কঠোর সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব খাতে অবশিষ্ট বরাদ্দের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ ব্যয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর বেশি ব্যয় করলে অতিরিক্ত অর্থ পরবর্তীতে দাবি করা যাবে না বলে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
সেমিনার ও কনফারেন্স আয়োজনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয়ের সুযোগ রাখা হলেও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
এছাড়া ভবন নির্মাণ খাতে ব্যয় অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে যেসব প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে ৭০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন নিয়ে ব্যয় করা যাবে।
কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ক্রয়েও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিচালন বাজেটে ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় স্থগিত রাখা হয়েছে, যদিও উন্নয়ন বাজেটে প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদন সাপেক্ষে ব্যয় করা যাবে।
অর্থ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির চাপ মোকাবিলা, বৈদেশিক মুদ্রার সংরক্ষণ এবং সরকারি ব্যয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এসব কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।