রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশে গত তিন সপ্তাহে হাম রোগে অন্তত ৯৮ শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে বলে সরকারি তথ্যে জানা গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজধানী ঢাকাসহ সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত এলাকাগুলোতে জোরদার করা হয়েছে টিকাদান কার্যক্রম।
রোববার (৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী ৬ হাজার ৪৭৬ শিশুর মধ্যে হাম-সদৃশ উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক হালিমুর রশিদ বলেন, আগের বছরের তুলনায় আক্রান্ত শিশু ও মৃত্যুর সংখ্যা উভয়ই বেড়েছে।
তবে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হাম রোগীর সংখ্যা ৮২৬ জন এবং এদের মধ্যে ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা না হওয়া বা পরীক্ষার আগেই রোগীর মৃত্যু হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ, যা কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে ছড়ায়। এটি শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং জটিল ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে প্রদাহ ও গুরুতর শ্বাসকষ্টের মতো ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টিকার ঘাটতি, বিলম্বিত টিকাদান কর্মসূচি এবং সাম্প্রতিক অস্থিরতা এ প্রাদুর্ভাবের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। ২০২৪ সালের জুনে নির্ধারিত হাম টিকাদান কর্মসূচি রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পিছিয়ে যায়।
জাতীয় যাচাইকরণ কমিটির প্রধান মাহমুদুর রহমান বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে হাম শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ছিল, কিন্তু দুর্বল টিকাদান কর্মসূচির কারণে তা সম্ভব হয়নি।
এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঢাকার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরে তা সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও সময়মতো টিকা সংগ্রহ না করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে, যা এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি সূত্র: আল জাজিরা