বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেরিখালী গ্রামের এক অসহায় পরিবারের গল্প এখন স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে। জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করা এই পরিবারের কর্তা মোঃ আলাউদ্দিন গোলদার, পেশায় একজন মুয়াজ্জিন। রামপালের পেরিখালী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করলেও তার মাসিক আয় মাত্র ৭ হাজার টাকা। এই সামান্য আয়ের ওপর নির্ভর করেই এতদিন কোনোভাবে চলছিল তার সংসার।
তবে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি তার জীবনে আসে এক বড় পরিবর্তন। ওই দিন তার পরিবারে একসঙ্গে জন্ম নেয় চারটি কন্যা সন্তান। এর আগে তার আরও দুইটি কন্যা সন্তান রয়েছে, যাদের বয়স ৮ ও ১৪ বছর। ফলে একদিনেই ছয় কন্যা সন্তানের জনক হয়ে পড়েন আলাউদ্দিন। আনন্দের এই মুহূর্ত খুব দ্রুতই পরিণত হয় উদ্বেগ আর দুশ্চিন্তায়।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া, সেখানে ৭ হাজার টাকার আয়ে সংসার চালানোই কঠিন। তার ওপর ছয় সন্তানের খাবার, চিকিৎসা, দুধ, ওষুধ ও শিক্ষার ব্যয় বহন করা যেন এক অসম্ভব দায়িত্বে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে নবজাতক চার শিশুর অতিরিক্ত যত্ন ও চিকিৎসার প্রয়োজন তাকে চরম আর্থিক সংকটে ফেলেছে।
এরই মধ্যে হঠাৎ করে চার নবজাতক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের দ্রুত স্থানীয় রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, শিশুদের ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম এবং তারা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় পাঠানোর কথাও ভাবা হচ্ছে।
রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুকান্ত কুমার পাল জানান, “আমরা শিশুদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছি। বাচ্চারা কম ওজন নিয়ে জন্ম নিয়েছে। তাদের অবস্থা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ, তাই ২৪ ঘণ্টা না গেলে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা আমাদের সেবা চলমান রাখছি।”
হাসপাতালের এক কোণে দাঁড়িয়ে অসহায় কণ্ঠে আলাউদ্দিন বলেন, “আমি অনেক কষ্ট করে চলছি, কিন্তু এই অল্প আয়ে এত বড় সংসার সামলানো সম্ভব হচ্ছে না। এখন শুধু আমার সন্তানদের বাঁচাতে সবাই যদি একটু সহযোগিতা করত।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এমন পরিস্থিতিতে একটি পরিবার একা লড়াই করতে পারে না। একজন স্বল্প আয়ের ধর্মীয় কর্মীর পক্ষে ছয় সন্তানের দায়িত্ব বহন করা অত্যন্ত কঠিন। তারা মনে করছেন, দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি, উপজেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন মানবিক সংগঠন যদি দ্রুত এগিয়ে আসে, তাহলে এই পরিবারটি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে। একই সঙ্গে নবজাতক শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাও সম্ভব হবে।
একটি অসহায় পরিবারের এই সংগ্রাম এখন সমাজের কাছে এক মানবিক আবেদন—সবার সম্মিলিত সহযোগিতাই পারে তাদের জীবনে আশার আলো ফিরিয়ে আনতে।
সাহায্যর জন্য যোগাযোগ : আলাউদ্দিন ০১৪১০-১২৫৮৪২
রিপোর্টার্স২৪/এসএন