আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেদেরই একটি বা একাধিক আধুনিক সামরিক বিমান ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র;এমন খবর প্রকাশ করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় গণমাধ্যম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের একটি F-15E Strike Eagle যুদ্ধবিমান ইরানে ভূপাতিত হওয়ার পর তার পাইলটদের উদ্ধারে ঝুঁকিপূর্ণ বিশেষ অভিযান চালানো হয়। ইরানের পক্ষ থেকে ওই পাইলটকে আটক করার হুমকি থাকায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে মার্কিন বাহিনী।
সূত্র জানায়, ইরানের মরুভূমিতে অস্থায়ী এয়ারফিল্ড তৈরি করে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। কিন্তু সেখানে অবতরণের পর অন্তত একটি (কিছু সূত্রে দুইটি) মার্কিন বিমান অকেজো হয়ে পড়ে। মরুভূমির বালিতে আটকে যাওয়া বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এগুলো পুনরায় উড্ডয়ন করতে পারেনি।এদিকে, ইরান-এর সেনাবাহিনী অভিযানের অবস্থান অনুমান করে এগিয়ে আসছিল। ফলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে শত্রুপক্ষের হাতে সংবেদনশীল সামরিক প্রযুক্তি বা তথ্য চলে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে অকেজো বিমান ধ্বংস করা সামরিক প্রোটোকলের অংশ।
ধ্বংস হওয়া বিমানটি সম্ভবত MC-130J Commando II মডেলের, যার মূল্য প্রায় ১০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯০০ কোটি টাকা)। এ ধরনের বিমানে উন্নত যোগাযোগ, নেভিগেশন ও বিশেষ অপারেশন প্রযুক্তি থাকে, যা শত্রুপক্ষের হাতে গেলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষ অভিযানে এ ধরনের পদক্ষেপ নতুন নয়। ২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে ওসামা বিন লাদেন-কে হত্যার অভিযানের সময়ও যুক্তরাষ্ট্র একটি ক্ষতিগ্রস্ত হেলিকপ্টার ধ্বংস করে দিয়েছিল, যাতে প্রযুক্তিগত তথ্য ফাঁস না হয়।
এদিকে, ইরান দাবি করেছে তারা ‘শত্রুপক্ষের উড়ন্ত বস্তু ধ্বংস করেছে’ এবং এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় হিসেবে দেখিয়েছে। যদিও মার্কিন পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত;কারণ প্রযুক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা অনেক সময় একটি বিমানের আর্থিক মূল্যের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি