আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় ধারাবাহিক ড্রোন হামলার জেরে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গ-এও যুদ্ধের প্রভাব অনুভূত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বাতাসে জ্বালানি ও রাসায়নিক পোড়ার গন্ধ পাচ্ছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে রাশিয়ার বাল্টিক উপকূলের দুই বড় তেল টার্মিনাল উস্ত-লুগা ও প্রিমোর্স্ক। এই দুটি স্থাপনা মস্কোর সমুদ্রপথে তেল রপ্তানির প্রায় ৪০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।
দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে ১,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূর থেকে এসব স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে, যাতে তেলের ট্যাংক ও রপ্তানি অবকাঠামোতে আগুন ধরে যায়। অনেক ক্ষেত্রে আগুন কয়েকদিন ধরে জ্বলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মার্চের শেষ দিক থেকে ডিজেল, প্লাস্টিক বা পচা ডিমের মতো গন্ধ বাতাসে ভেসে আসছে। এতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।এক বাসিন্দা বলেন, “ভাবিনি যুদ্ধ এভাবে আমাদের চারপাশের বাতাসেও পৌঁছে যাবে।”
এই হামলার ফলে রাশিয়ার বাল্টিক তেল রপ্তানিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, এতে ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। উস্ত-লুগা ও প্রিমোর্স্ক বন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিকল্প ছোট বন্দরে তেল পাঠাতে হচ্ছে, যা অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে পারছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের এই হামলার মূল উদ্দেশ্য হলো রাশিয়ার যুদ্ধ তহবিল দুর্বল করা। তেলের দাম বাড়লে মস্কোর আয় বাড়ে—এই বাস্তবতায় তেল স্থাপনায় হামলা করে সেই সুবিধা কমাতে চায় কিয়েভ।ইউক্রেন ইতোমধ্যে ১৩টির বেশি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৮টি রিফাইনারি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাশিয়া যেখানে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, সেখানে ইউক্রেন পাল্টা কৌশল হিসেবে রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলোকে টার্গেট করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা একদিকে যেমন রাশিয়ার অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে চলমান শান্তি আলোচনায় ইউক্রেনের জন্য নতুন কৌশলগত সুবিধাও তৈরি করছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি