স্টাফ রিপোর্টার: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ে ৪৩ বছর আগের একটি ছবি। ছবিতে দেখা যায়, রাজধানীর হলিক্রস স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডে মানবিক বিভাগে প্রথম হওয়া এক মেধাবী শিক্ষার্থীকে, যাঁর পাশে বসে আছেন বাবা-মা। সেই শিক্ষার্থী আর কেউ নন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টানা তিনবার জাতীয় সংসদের স্পিকার থাকা ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পরই নেটিজেনদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। কারণ, শিরীন শারমিন শুধু স্কুল-কলেজেই নয়, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিদেশের শিক্ষাজীবনেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিলেন। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই সাফল্যের অধ্যায়ে এখন যুক্ত হয়েছে গ্রেফতার ও কারাবন্দির বাস্তবতা।
মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাচেষ্টা ও ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায়। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেন বিচারক। একই সঙ্গে জামিন আবেদনও খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তারের পরদিন থেকেই বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ৫ আগস্টের পর তিনি কোথায় ছিলেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, একসময়কার প্রভাবশালী এই রাজনীতিকের এমন পরিণতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতারই প্রতিফলন।
শিরীন শারমিন চৌধুরীর জন্ম ১৯৬৬ সালের ৬ অক্টোবর ঢাকায়। তাঁর বাবা রফিকুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন সিএসপি কর্মকর্তা ও সাবেক সচিব। মা প্রফেসর নাইয়ার সুলতানা ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ও পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য ছিলেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি ছিলেন ব্যতিক্রমী মেধাবী। ১৯৮৩ সালে এসএসসিতে ঢাকা বোর্ডে মানবিক বিভাগে প্রথম হন তিনি। ১৯৮৫ সালে এইচএসসিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএমে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন এবং যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব এসেক্স থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
রাজনীতিতে শিরীন শারমিন ইতিহাস গড়েন ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল, যখন তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরে ২০১৯ সালে তিনি আবারও স্পিকার নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।
একসময় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনসভা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এই নেত্রীর গ্রেফতারের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সাফল্যের শিখরে ওঠা এবং তারপর আকস্মিক পতন—শিরীন শারমিন চৌধুরীর বর্তমান পরিস্থিতি যেন সেই চিরচেনা রাজনৈতিক সত্যকেই সামনে এনেছে।