চাঁদপুর প্রতিনিধি: চাঁদপুরের হাইমচরে মেঘনা নদী তীরবর্তী এলাকায় ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে নদী তীর রক্ষা বাঁধ।
উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়নের ১ নম্বর গাজীনগর এলাকায় নদী রক্ষা বাঁধ সংলগ্ন কয়েক একর বালুচর ড্রেজার দিয়ে কেটে নেওয়ায় সেখানে এখন অথৈ পানি। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁধটি এখন ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাজীনগর এলাকায় মেঘনার তীরে জেগে ওঠা বিশাল বালুচরে আশেপাশে খালি জায়গা না থাকায় শিশু-কিশোররা নিয়মিত খেলাধুলা করত। সোমবার বিকালেও সেখানে ফুটবল খেলা হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে এসে তারা দেখতে পান, রাতের আঁধারে প্রভাবশালী একটি মহল ড্রেজার দিয়ে বালু কেটে নেওয়ায় মাঠের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। সেখানে এখন শুধু পানি জমে আছে।
স্থানীয় বাসিন্দা দুলু মুন্সি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সোমবার বিকেলে এখানে ছেলেরা ফুটবল খেলল, আর সকালে এসে দেখি মাঠটাই নেই। ড্রেজার দিয়ে সব বালু নিয়ে গেছে। এতে নদী রক্ষা বাঁধটি চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। বাঁধ ভেঙে গেলে আমাদের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।”
হাইমচর থানা পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড সাতজনকে আসামি করে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলার আসামিরা হলেন—হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল কাদের (২২), পিরোজপুরের নেছারাবাদ থানার স্বরূপকাঠি এলাকার আইয়ুব আলী (২০), নাজিরপুর থানার মধ্য কলারদোয়ানীয়া এলাকার আমান উল্লাহ (১৯), শরীয়তপুরের গোসাইরহাট থানার ঢাকেরহাটি এলাকার মোরশালিন (১৯), পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার কলারদোয়ানিয়া এলাকার শফিকুল ইসলাম (২৩), হাইমচর থানার উত্তর বগুলা গ্রামের দেলোয়ার মিজি (৪৪) এবং দক্ষিণ আলগী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড চরভাঙ্গা গ্রামের মনির হোসেন ওরফে জুয়েল (৩৫)।
হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানান, মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামি দেলোয়ার ও জুয়েলকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা প্রশাসন ও জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।
হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থান মেরামতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে স্টকে থাকা ব্লক এনে প্রাথমিকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন