আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টা আগে এই সমঝোতা হয়, যেখানে ইরানকে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছিল।
মঙ্গলবার রাতে দেওয়া ঘোষণায় ট্রাম্প জানান, ইরানের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। এই চুক্তির মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন অসীম মুনির এবং শেহবাজ শরীফ। শরিফ জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, যদি ইরানের ওপর হামলা বন্ধ থাকে, তবে তারা পাল্টা হামলা বন্ধ করবে এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করবে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটিকে “দ্বিমুখী যুদ্ধবিরতি” হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির পথে অনেকটাই এগিয়েছে।অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এই চুক্তিকে তাদের বিজয় হিসেবে বর্ণনা করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে নিয়েছে।
তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের মতে, ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পরই এটি পুরোপুরি কার্যকর হবে। এর মধ্যবর্তী সময়ে সংঘর্ষ চলতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ছয় সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধে প্রায় এক ডজন দেশে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে, যার মধ্যে ইরানে ১,৬০০-এর বেশি বেসামরিক নাগরিক রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর বৈশ্বিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তেলের দাম কমেছে, শেয়ারবাজারে উল্লম্ফন ঘটেছে এবং মার্কিন ডলারের মান কিছুটা দুর্বল হয়েছে,যা বৈশ্বিক বাণিজ্য স্বাভাবিক হওয়ার আশার প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি মূলত আস্থা তৈরির একটি পদক্ষেপ। তবে এটি স্থায়ী শান্তিতে রূপ নিতে হলে দুই পক্ষের মধ্যে কার্যকর ও দ্রুত কূটনৈতিক অগ্রগতি প্রয়োজন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি