ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহে দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে মাদকের বিস্তার। শহরের অলিগলি, পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশেও সহজলভ্য হয়ে উঠেছে ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছু অসাধু চক্র পরিকল্পিতভাবে তরুণদের টার্গেট করে মাদক সরবরাহ করছে। প্রথমে বন্ধুবান্ধবের প্রভাবে বা কৌতূহলবশত মাদক গ্রহণ শুরু করলেও অনেকেই দ্রুত আসক্ত হয়ে পড়ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা।
বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে মাদকগ্রহণের প্রবণতা বাড়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবার বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই তরুণরা গভীর আসক্তির মধ্যে জড়িয়ে পড়ছে।
অভিভাবক ও সচেতন মহল বলছেন, প্রশাসনের অভিযান থাকলেও তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট নয়। মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হলে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
একজন অভিভাবক বলেন, সন্তানদের চলাফেরা ও বন্ধুমহল সম্পর্কে সচেতন নজরদারি বাড়াতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে।
সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, এখনই কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা না গেলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাবে। তারা নিয়মিত অভিযান জোরদার, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের আশ্বাস দেওয়া হলেও দ্রুত দৃশ্যমান ফলাফলের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের মতে, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ এবং পুরো জাতিকেই ধ্বংস করে। তাই সম্মিলিত উদ্যোগেই এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি