স্টাফ রিপোর্টার: জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে বিজ্ঞানীদের আরও সক্রিয় গবেষণার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, পরিকল্পিত গবেষণার মাধ্যমে জাটকার উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ইলিশের ডিমের সঠিক পরিস্ফুটন নিশ্চিত করা গেলে দেশের অন্যতম মূল্যবান এই সম্পদের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।
বুধবার (৮ এপ্রিল) ‘জাটকা ধরা থামাই যদি, ইলিশে ভরবে সাগর-নদী’ প্রতিপাদ্যে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘ইলিশ গবেষণা: অর্জিত সাফল্য, জাটকা সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক এই কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
মন্ত্রী বলেন, ইলিশের স্বাদ ও গুণগত মান অক্ষুণ্ন রেখে উৎপাদন বাড়ানোর প্রযুক্তি উদ্ভাবনে জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে উৎপাদন বাড়িয়ে এই মাছকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। জেলেদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নদী ও জাল আপনাদের—তাই জাটকা ধরা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ কী হতে পারে, সে বিষয়ে আপনারাই সরকারকে পরামর্শ দিতে পারেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের একটি ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য এবং বিশ্বে মোট উৎপাদনের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশই বাংলাদেশে হয়। তাই এই সম্পদ রক্ষায় সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, জাটকা ধরা পুরোপুরি বন্ধ করা গেলে ইলিশ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং তা দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।
জেলেদের সহায়তায় সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি জানান, গত দুই মাসে ৪০ হাজার জেলে পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে ৮০ কেজি চাল, ১২ কেজি আটা, ১০ লিটার তেল, ৪ কেজি চিনি, ৮ কেজি ডাল ও ১৬ কেজি আলু দেওয়া হচ্ছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ছয় হাজার টাকা।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ড. অনুরাধা ভদ্র। গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। এছাড়া বক্তব্য দেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-এর ফিশারিজ অনুষদের ডিন ড. কাজী আহসান হাবীব এবং মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. মোতালেব হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আলম।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলে ও মৎস্যচাষীরা অংশ নেন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি