আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানকে সামরিক অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ ঘোষণা দেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হুমকি দেন ট্রাম্প। টানা পাঁচ সপ্তাহ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, সামরিক স্থাপনা ও অস্ত্র শিল্পে হামলার পর এবার শুল্ককে কৌশলগত চাপ হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি।
ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, যে কোনো দেশ ইরানকে সামরিক অস্ত্র সরবরাহ করলে, সেই দেশের যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকৃত সব পণ্যের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এতে কোনো ছাড় বা ব্যতিক্রম থাকবে না।
যদিও তিনি সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি, তবে ধারণা করা হচ্ছে এ বার্তা মূলত চীন ও রাশিয়ার উদ্দেশেই দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এই দুই দেশ ইরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে আসছে। তবে বেইজিং ও মস্কো সাম্প্রতিক সময়ে এমন কোনো সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের ব্যাপক শুল্ক আরোপের ক্ষমতা সীমিত করে দেয়। ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ ব্যবহার করে আরোপিত বৈশ্বিক শুল্ককে আদালত অবৈধ ঘোষণা করে।
রয়টার্সের আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরান চীনের কাছ থেকে সুপারসনিক অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয় বিবেচনা করছিল। এছাড়া চীনের শীর্ষ সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান SMIC ইরানের সামরিক খাতে চিপ তৈরির সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট জশ লিপস্কি বলেন, ট্রাম্পের এই হুমকি মূলত চীনকে লক্ষ্য করেই দেওয়া হয়েছে এবং বেইজিংও সেটিকে সেভাবেই দেখবে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, খুব শিগগিরই এই হুমকি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কম। কারণ এতে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়তে পারে এবং চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠকও বিঘ্নিত হতে পারে।
চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝ্যাং শিয়াওগাং এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইরান ইস্যুতে চীন সবসময় নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে কাজ করছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে এখনও কিছু বিকল্প বাণিজ্যিক উপায় রয়েছে। এর মধ্যে ‘সেকশন ৩০১’ ব্যবস্থার মাধ্যমে অন্যায্য বাণিজ্য চর্চার অভিযোগে দ্রুত শুল্ক আরোপ করা সম্ভব। এছাড়া ১৯৬২ সালের ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্টের ‘সেকশন ২৩২’ ব্যবস্থাও প্রয়োগ করা যেতে পারে, যা জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে নির্দিষ্ট খাতে শুল্ক আরোপের সুযোগ দেয়।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পণ্যের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একইভাবে ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটি থেকেও আমদানি কমে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই শুল্ক হুমকি বৈশ্বিক বাণিজ্য ও ভূরাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি