স্টাফ রিপোর্টার: ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি-অন্তত তিন মাসের মজুত গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে অন্তত তিন মাসের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে বাজারে এলপিজি সিলিন্ডার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কড়াকড়ি নজরদারির আশ্বাস দেন তিনি।
দীর্ঘমেয়াদি মজুত নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার এখনই প্রস্তুতি নিতে চায়, যাতে সংকট কেটে গেলে বিষয়টি ভুলে না যায়। অতীতে নিয়মিত জাহাজে জ্বালানি সরবরাহ থাকায় মজুতের প্রয়োজনীয়তা তেমনভাবে অনুভূত হয়নি। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রমাণ করেছে, দীর্ঘমেয়াদি মজুত অত্যন্ত জরুরি।
তিনি জানান, দেশের ডিজেলের প্রায় পুরোটা এবং অকটেন-পেট্রোলের একটি বড় অংশ আমদানিনির্ভর। তাই সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়। এ কারণেই সরকার মজুত বাড়ানোর উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে।
ক্রুড অয়েল আমদানি পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিক থাকলে জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তি পাওয়া যাবে। বর্তমানে তিনটি জাহাজের মধ্যে দুটি স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। একটি জাহাজে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করা হলেও তা নিয়ে আলোচনা চলছে। অন্য একটি জাহাজ যাত্রা শুরু করেছে এবং আরেকটি ৮ এপ্রিল রওনা হয়েছে, যা মাসের শেষদিকে দেশে পৌঁছাতে পারে।
জ্বালানি ভর্তুকি ও সম্ভাব্য মূল্য সমন্বয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় আপাতত জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রেখেছে, যা বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে খুব কম দেশই করতে পেরেছে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বিবেচনায় নীতিগত পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা ও বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কিছুটা কমলেও দেশে তা সমন্বয় করা হয়নি, যাতে ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ না পড়ে।
জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ‘ফুয়েল পাস’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ব্যবস্থা এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে জ্বালানি প্রাপ্তি সহজ করা এবং ভোগান্তি কমানোই এর লক্ষ্য। এতে ফিলিং স্টেশন মালিক, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
এদিকে এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির বিষয়ে ভোক্তাদের অসন্তোষ বাড়ছে। বর্তমানে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্য প্রায় ১,৪০০ টাকার কাছাকাছি হলেও বাজারে তা ২,০০০ থেকে ২,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ৩৫ কেজি সিলিন্ডার, যার নির্ধারিত মূল্য প্রায় ৫,৪০০ টাকা, তা ৬,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ বিষয়ে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। তবে এলপিজি খাতের প্রায় ৯৯ শতাংশ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হওয়ায় বাজার নিয়ন্ত্রণে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগ তদন্তে জেলা প্রশাসকদের তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব