আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি : গাজা উপত্যকায় ইজরায়েলি ড্রোন হামলায় প্রাণ হারালেন আল জাজিরার সাংবাদিক মহম্মদ উইশাহ। বুধবার গাজা শহরের পশ্চিম দিকের উপকূলীয় রাস্তা আল-রশিদ স্ট্রিট দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইজরায়েলি ড্রোন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এই প্রাণঘাতী হামলার পর গাড়িটিতে দাউদাউ করে আগুন ধরে যায়। আল জাজিরা মোবাশের-এর সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত উইশাহ ২০১৮ সালে এই সংবাদ সংস্থায় যোগ দিয়েছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক একে একটি ‘জঘন্য অপরাধ’ বলে অভিহিত করেছে।
তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সাংবাদিকদের ভয় দেখানো এবং সত্যের কণ্ঠরোধ করার জন্য ইজরায়েলের একটি সুপরিকল্পিত ও লক্ষ্যভেদী হামলা। গত অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ইজরায়েল ধারাবাহিকভাবে সংবাদকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গাজা সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২৬২ জন সাংবাদিক ইজরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে গাজায় আমেরিকা-মধ্যস্থতায় একটি তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ চললেও, ইজরায়েল তা বারবার লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ করেছেন আল জাজিরার প্রতিবেদক ইব্রাহিম আল-খলিলি।
তিনি জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রায় ছয় মাস পরেও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নেই, যার প্রমাণ উইশাহর এই মর্মান্তিক মৃত্যু। গাজা সরকারি মিডিয়া অফিসের দাবি, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে ইজরায়েলি সেনাবাহিনী প্রায় ২,০০০ বার তা লঙ্ঘন করেছে। প্যালেস্তাইন সাংবাদিকদের ওপর এই পরিকল্পিত হামলার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ফেডারেশন ও বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদ সংস্থাকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইজরায়েলি অভিযানে ৭২,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ১,৭১,০০০-এর বেশি আহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তথাকথিত যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ইজরায়েলি হামলায় অন্তত ৭৩৩ জন প্যালেস্তিনীয় নিহত এবং ২,০৩৪ জন আহত হয়েছেন। এই অব্যাহত রক্তপাত এবং সংবাদমাধ্যমের ওপর আক্রমণ রুখতে আন্তর্জাতিক মহলের কার্যকর হস্তক্ষেপ ও দোষীদের বিচারের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব