গাজীপুর প্রতিনিধি: গ্রামীণ পথ পেরিয়ে সুনিবিড় ছায়াঘেরা বিপ্রবর্থা গ্রামে এখন আলোচনার কেন্দ্রে প্রকৌশলী রোকনোজ্জামান। পেশায় প্রকৌশলী হলেও কৃষিকাজে ঝুঁকে পড়ে তিনি ইউক্রেন জাতের আঙ্গুর চাষে সাফল্য পেয়েছেন। তাঁর বাগান দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন এলাকাবাসী।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বিপ্রবর্থা গ্রামে রোকনোজ্জামান ৫ একর জমি লিজ নিয়ে আগে মালটা, ড্রাগন ও প্যাশন ফ্রুট চাষ শুরু করেন। পরে এক বিঘা জমিতে ইউক্রেন জাতের আঙ্গুর চাষ করে তিনি রীতিমতো চমক সৃষ্টি করেছেন। দুই শতাধিক গাছে ঝুলছে থোকা থোকা সবুজ আঙ্গুর। আরও প্রায় এক মাস পর ফল পাকলে তা বেগুনি রঙ ধারণ করবে এবং খেতে হবে সুমিষ্ট।
বাগান পরিচর্যাকারী ও ম্যানেজার জানান, এই জাতের আঙ্গুর গাছে ফেব্রুয়ারির দিকে ফুল আসে। মাত্র চার মাসের মধ্যেই ফল খাওয়ার উপযোগী হয়ে ওঠে। অন্যান্য ফসলের মতোই সার ও কীটনাশক ব্যবস্থাপনা করতে হয়। বর্তমানে প্রতিদিন শত শত মানুষ বাগানটি দেখতে আসছেন।
বাগান দেখতে আসা ফয়সাল হোসেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগানটির খবর দেখেছিলাম। এসে অবাক হয়েছি, গাজীপুরেও আঙ্গুর চাষ হচ্ছে। ফলনও খুব ভালো। আমরাও চারা নিয়ে রোপণের কথা ভাবছি।
প্রকৌশলী রোকনোজ্জামান বলেন, আমি পেশায় একজন প্রকৌশলী। মহামারি করোনার পর কাজের পাশাপাশি কৃষিকাজ শুরু করি। এবার আঙ্গুর চাষ করেছি। এক বিঘা জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ ও পরিচর্যায় প্রায় চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে। প্রথম ফলনেই এই খরচ উঠে আসবে। এরপর অন্তত ২০ বছর ফলন পাওয়া যাবে।
তিনি তরুণদের কৃষিকাজে আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বেকারত্ব ঘোচাতে কৃষিই হতে পারে বড় ভরসা।
গাজীপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে আমরা বাগানটি পরিদর্শন করেছি। তিনি আগে ড্রাগন চাষ করতেন। এবার বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর উৎপাদন করেছেন। আমরা নিয়মিত খোঁজখবর রাখছি, উৎপাদনের পরিমাণও নজরে রাখা হবে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি