রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দামে আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। মাছ, মুরগি ও সবজিসহ প্রায় সব খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্তের মানুষ। আয় না বাড়লেও ব্যয় বাড়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের তুলনায় প্রায় প্রতিটি সবজির দাম বেড়েছে। এতে দৈনন্দিন খরচ সামলাতে ক্রেতাদের নানাভাবে কাটছাঁট করতে হচ্ছে।
বাজারে গোল বেগুন প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ঝিঙ্গা ৮০ টাকা, পেঁপে ৬০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ১০০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, শিম ৮০ টাকা এবং পটল ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া ঢেঁড়স ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, টমেটো ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতিটি ৪০ টাকা, ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, লাউ ৭০ থেকে ৮০ টাকা, সজিনা ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকার ক্রেতা সোলেমন রহমান বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। বাজারে এসে এখন খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিক্রেতাদের দাবি, জ্বালানির সংকট ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সবজির দাম বেড়েছে। মালিবাগ বাজারের এক বিক্রেতা রহমান জানান, পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে তা প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি অনেক সবজির মৌসুম শেষ হওয়ায় সরবরাহ কমে গেছে।
তিনি বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতিটি সবজির দাম ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সরবরাহ বাড়লে দাম আবার কমতে পারে।
শুধু সবজি নয়, মুরগির বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। বাজারে সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাসের ব্যবধানে প্রায় ১০০ টাকা বেড়েছে। এক বছর আগের তুলনায় এ দাম বেড়েছে প্রায় দেড়শত টাকা। ব্রয়লার মুরগির দামও কেজিতে ২০ টাকা বেশি রয়েছে। তবে ডিমের দাম আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে।
বিক্রেতারা জানান, মুরগির বাচ্চা ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি রোগের প্রাদুর্ভাবে খামারিরা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে।
তবে কারওয়ান বাজারের ক্রেতা কামাল হাসান এ যুক্তি মানতে নারাজ। তিনি বলেন, হঠাৎ করে ১০০ টাকার বেশি দাম বাড়া স্বাভাবিক নয়। এটি ব্যবসায়ীদের কারসাজি বলেই মনে হচ্ছে।
এদিকে মাছের বাজারেও দাম চড়া রয়েছে। আকারভেদে তেলাপিয়া, কই ও পাঙাশ মাছ প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের চাষের চিংড়ি ৮০০ টাকা এবং শিং, পাবদা ও পোয়া মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সব মিলিয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে ঊর্ধ্বগতির কারণে ভোগান্তি বাড়ছে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে সবচেয়ে বেশি।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম