আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তাইওয়ানের স্বাধীনতা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শুক্রবার বেইজিংয়ে তাইওয়ানের প্রধান বিরোধী দলের নেতার সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ সতর্কতা দেন এবং দুই পক্ষের মধ্যে “পুনর্মিলন” এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাইওয়ানের বৃহত্তম বিরোধী দল কুওমিনতাং (কেএমটি)-এর চেয়ারম্যান চেং লি-উন বর্তমানে “শান্তি মিশন” নিয়ে চীন সফরে রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বেইজিং তাইওয়ানের ওপর সামরিক চাপ বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যেই এ সফর বলে জানিয়েছেন তিনি।
বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শি জিনপিং বলেন, বর্তমান বিশ্ব পুরোপুরি শান্ত নয় এবং শান্তি অত্যন্ত মূল্যবান। তিনি বলেন, তাইওয়ান প্রণালীর দুই পাশের মানুষ একই জাতির এবং তারা শান্তি, উন্নয়ন ও সহযোগিতা চায়।
শি আরও বলেন, তাইওয়ানের স্বাধীনতা শান্তি বিনষ্টের মূল কারণ। আমরা এটি কোনোভাবেই মেনে নেব না। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, তাইওয়ান ও চীন একই ‘এক চীন’ নীতির অন্তর্ভুক্ত।
দীর্ঘদিন ধরে চীনের লক্ষ্য থাকা তাইওয়ানের সঙ্গে একীকরণ প্রসঙ্গও আলোচনায় আসে। শি বলেন, কুওমিনতাং ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে রাজনৈতিক আস্থা জোরদার করতে হবে এবং যৌথভাবে জাতীয় পুনরুত্থান ও পুনর্মিলনের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে।
অন্যদিকে, চীন বর্তমান তাইওয়ান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে-এর সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বেইজিং তাকে “বিচ্ছিন্নতাবাদী” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তাইওয়ানের ক্ষমতাসীন দল ডেমোক্র্যাটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি (ডিপিপি) কেএমটির এ সফরের সমালোচনা করে বলেছে, চীনের হুমকি বন্ধে চাপ প্রয়োগ করা উচিত।
ডিপিপির মহাসচিব হসু কুও-ইয়ুং অভিযোগ করেন, কেএমটি যখন চীনে সফর করছে, তখন তারা সংসদে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের অনুমোদন বিলম্বিত করছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে, কুওমিনতাং একসময় সমগ্র চীন শাসন করলেও ১৯৪৯ সালে মাও সেতুং-এর কমিউনিস্ট বাহিনীর কাছে গৃহযুদ্ধে পরাজিত হয়ে তাইওয়ানে সরে যায়। এরপর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো শান্তিচুক্তি বা যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি এবং এখনো একে অপরকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় না।
বৈঠকে চেং লি-উন বলেন, উভয় পক্ষের জনগণ পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক চায় এবং এ জন্য সংলাপ ও বিনিময় বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে তাইওয়ানে চীনা নেতৃত্বকে স্বাগত জানানোর সুযোগ তৈরি হবে।
চেং আরও বলেন, দুই পক্ষের প্রচেষ্টায় তাইওয়ান প্রণালীকে আর সংঘাতের কেন্দ্র হিসেবে দেখা হবে না এবং এটি “বহিরাগত শক্তির দাবার বোর্ডে” পরিণত হবে না।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমর্থক ও অস্ত্র সরবরাহকারী, যদিও দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। বেইজিং বহুবার ওয়াশিংটনকে তাইওয়ানকে অস্ত্র সহায়তা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনাকে সমর্থন করে আসছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি