আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননে হামলা ‘কমানোর’ আহ্বান জানানোর পরও নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতি আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) লেবাননের অন্তত দুটি শহরে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলা চালায়। এর আগে স্বল্প সময়ের জন্য হামলা কমলেও ট্রাম্পের আহ্বানের পর পুনরায় এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরান-সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, ইসরায়েলের হামলার জবাবে তারা উত্তর ইসরায়েলের কিরিয়াত শমোনা ও মিসগাভ আম এলাকায় রকেট নিক্ষেপ করেছে। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানায়, আমাদের দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-আমেরিকার আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই জবাব অব্যাহত থাকবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি ক্রমেই চাপে পড়ছে। তেহরান দাবি করছে, দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। তবে ইসরায়েল এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রও এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানের প্রভাবশালী আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম’ জানিয়েছে, লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্ধারিত আলোচনা স্থগিত রাখা হতে পারে। এতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনায় অংশ নিতে ওয়াশিংটন থেকে রওনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে ইরান এখনো তাদের প্রতিনিধিদলের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি, যা কূটনৈতিক চাপ তৈরির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই লেবাননের সঙ্গে দেশটির আনুষ্ঠানিক বিরোধ চলছে। সাম্প্রতিক সংঘাতে গত বুধবার লেবাননে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়, যা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তোলে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন ইস্যুতে মতবিরোধ দূর না হলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি বাড়বে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি