আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ছয় সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মুখোমুখি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা। আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের উচ্চপর্যায়ের নেতারা। তবে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর আগেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।রয়টার্সের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আলোচনার প্রধান বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো:
লেবাননে যুদ্ধবিরতি: ইরান চাইছে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হোক, যেখানে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলছে, লেবাননের সংঘাত এই আলোচনার অংশ নয়।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সম্পদ মুক্ত করা: ইরান দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করার দাবি তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইঙ্গিত দিয়েছে, পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে ছাড় দিলে তারা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে।
হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব স্বীকৃতি চায় ইরান। তারা এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ট্রানজিট ফি আরোপ ও চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায় কোনো বাধা বা ফি ছাড়াই জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকুক।
যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ : ছয় সপ্তাহের যুদ্ধে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি তুলতে পারে ইরান। এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র। পারমাণবিক কর্মসূচি: ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার অধিকার চায়। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই ইস্যুতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বড় আকারে সীমিত করা হোক। কিন্তু তেহরান এটিকে ‘অপরিবর্তনীয়[’ বলে জানিয়ে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা উপস্থিতি: ইরান চাইছে অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ এবং ভবিষ্যতে আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা। তবে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, শান্তিচুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব ইস্যুতে বড় ধরনের ছাড় না দিলে দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হবে। ফলে ইসলামাবাদের এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হলেও অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি