রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন ঘটার ফলেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং তা মোকাবিলায় সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিশ্ব পারকিনসন দিবস উপলক্ষে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হসপিটাল-এ আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য সচিব জানান, রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও বরিশালে হামের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি বলেন, দেশে টিকার কোনো ঘাটতি নেই এবং সবাইকে টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে।
দেশজুড়ে হঠাৎ করে হামের সংক্রমণ বেড়ে গেছে। প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। গত ৯ এপ্রিল সকাল থেকে ১০ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৭৭ শিশু এবং শনাক্ত হয়েছে ১৬৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আর নিশ্চিতভাবে হামে মারা গেছে ২৩ শিশু। আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪০৯ জনে এবং সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৮ হাজার ৯১০ শিশু। এদের মধ্যে ৬ হাজার ৬০৯ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়লেও পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ১২ এপ্রিল থেকে সিটি করপোরেশন এলাকায় এবং ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে একযোগে টিকাদান কার্যক্রম চালু হবে।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, আগে টিকা নেওয়া থাকলেও ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে পুনরায় হামের টিকা দেওয়া যাবে। তবে জ্বর বা গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছে এমন শিশুদের ক্ষেত্রে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম