রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: পৃথিবীর তাপমাত্রা গত প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালেও, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ কাভারেজ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে।
ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডার-এর মিডিয়া অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ অবজারভেটরি পরিচালিত গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২১ সালের পর থেকে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু বিষয়ক সংবাদ প্রতিবেদন প্রায় ৩৮ শতাংশ কমেছে।
গবেষকদের মতে, যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, মহামারি-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক সংকটের মতো বড় বৈশ্বিক ঘটনাগুলো সংবাদমাধ্যমের মূল ফোকাস দখল করায় জলবায়ু ইস্যু অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের একজন অ্যান্থনি লেইজারোভিটজ বলেন, সাধারণ মানুষ সরাসরি বৈজ্ঞানিক গবেষণা পড়ে না; তারা মূলত সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমেই জলবায়ু সংকট সম্পর্কে জানতে পারে। তাই কাভারেজ কমে গেলে জনসচেতনতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
আরেক গবেষক মার্ক হার্টসগার্ড বলেন, সংবাদমাধ্যমই নির্ধারণ করে কোন বিষয় সমাজে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে জলবায়ু নিয়ে কম আলোচনা হলে মানুষের মাঝে এর গুরুত্বও কমে যেতে পারে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বড় সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যেমন দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ ২০২১ সালের তুলনায় জলবায়ু বিষয়ক প্রতিবেদন কমে গেছে। অন্যান্য শীর্ষ সংবাদমাধ্যমেও একই ধরনের পতন লক্ষ্য করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা ‘ক্লাইমেট ফ্যাটিগ’ বা জলবায়ু ক্লান্তির কথাও উল্লেখ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে একই সংকট নিয়ে বারবার সংবাদ প্রকাশের ফলে পাঠকের আগ্রহ কমে যেতে পারে, এমন ধারণাও কাজ করছে সংবাদমাধ্যমের মধ্যে।
এছাড়া রাজনৈতিক চাপ ও করপোরেট প্রভাবের বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে প্রশাসনিক পরিবর্তন ও নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে পরিবেশবিষয়ক গবেষণা ও আলোচনায় প্রভাব পড়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা হলো সংবাদ কাভারেজ কমলেও বাস্তবে জলবায়ু সংকট আরও ভয়াবহ হচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে।
তাদের মতে, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সচেতনতা বাড়লে নীতিনির্ধারণেও চাপ তৈরি হয়।
তথ্যসূত্র: গ্রিস্ট
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম