স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা সেনানিবাসের সেনা প্রাঙ্গণ মিলনায়তনে রোববার (১২ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এক দরবারে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দল ও মতের ঊর্ধ্বে থেকে দেশকে ধারণ, সংবিধানের মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং জনগণের আস্থা অটুট রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান।
দরবারে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দলের সম্পত্তি নয়; এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের শক্তি ও মর্যাদার প্রতীক। রাষ্ট্রীয় সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জনগণের অবিচল আস্থাই বাহিনীর পথচলার প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত।
তিনি দেশের জন্য একটি আধুনিক ও সময়োপযোগী সশস্ত্র বাহিনী গঠনের অঙ্গীকার করে বলেন, বাংলাদেশকে এমন একটি রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যা কারও আধিপত্য মানবে না এবং বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, স্বার্থ ও সমতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার সশস্ত্র বাহিনী দেশপ্রেমে অনঢ় থাকলে বাংলাদেশ আরও নিরাপদ ও মর্যাদাশীল হবে। তিনি বাহিনীকে আধুনিক ও সময়োপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের প্রাপ্য সম্মান, পেশাগত মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার দায়িত্বশীল থাকবে। একই সঙ্গে তিনি দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে কেবল বাংলাদেশকে ভালোবাসার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এগোবে শৃঙ্খলা, সক্ষমতা, আত্মমর্যাদা ও দেশপ্রেমের শক্তিতে। সেই অগ্রযাত্রায় সশস্ত্র বাহিনীকে সহযোদ্ধা হিসেবে পাশে চায় সরকার। তার ভাষায়, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের পবিত্র দায়িত্ব।
দরবারে তিনি বলেন, সংবিধান, শপথ, শৃঙ্খলা ও কমান্ডের প্রতি অবিচল থাকতে হবে। পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্র প্রযুক্তি, কৌশল ও দক্ষতার সমন্বয়ে মোকাবিলা করতে হয়। জনগণের সঙ্গে বাহিনীর সম্পর্ক আস্থা, বিশ্বাস ও দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে গড়ে উঠতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলা, অব্যবস্থাপনা ও ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানান। দেশের সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও অপচয় রোধকে তিনি নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনের সময় বাংলাদেশের মর্যাদাকে সর্বোচ্চ স্থানে রাখার তাগিদ দেন তিনি।
সকালে ঢাকা সেনানিবাসে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান।
দরবারে ঢাকায় অবস্থানরত সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অন্য স্থানে অবস্থানরত সদস্যরা ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দেন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি