প্রিন্ট এর তারিখঃ | বঙ্গাব্দ || প্রকাশের তারিখঃ 13-04-2026 ইং
সংবাদ শিরোনামঃ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে সমন্বয়ের তাগিদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্টাফ রিপোর্টার: বিচার বিভাগ অতিরিক্ত স্বাধীন বা ‘সুপার স্বাধীন’ হলে তা রাষ্ট্রের জন্য কতটা কল্যাণকর—এ প্রশ্ন তুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সংবিধানের ১১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনায় বিচারকরা স্বাধীন, তবে এর বাইরে সর্বত্র ‘সার্বভৌম’ স্বাধীনতার কথা বলা হয়নি।
রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ’ বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেসব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। ব্রিফিংয়ে মূল বক্তব্য রাখেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। উপস্থিত ছিলেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের মধ্যে ভারসাম্য ও সমন্বয় থাকা জরুরি। ওভারল্যাপিং যেন না হয়, কেউ কারো সীমা অতিক্রম না করে—এটাই প্রয়োজন, বলেন তিনি। এ জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ এবং বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ নিয়ে ভালো আইন প্রণয়নের প্রয়োজন রয়েছে, যা সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে করতে হবে।
অন্যদিকে, কয়েকজন বিচারকের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, তাদের বিরুদ্ধে দুটি সুনির্দিষ্ট অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে। একটি হলো কোচিং সেন্টারের বিজ্ঞাপনে নিজেদের নাম ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া, যা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনায় নিষিদ্ধ। অন্যটি হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নির্ধারিত নীতিমালা লঙ্ঘন।
তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয় আইনের সীমার মধ্যে থেকে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টকে জানায় এবং তদন্তের জন্য অনুরোধ করে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিচারকরা তাদের দায়িত্ব পালনে স্বাধীন এবং তাদের চাকরিও সুরক্ষিত। সহকারী জজদের বদলি, পদোন্নতি বা শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি ছাড়া আইন মন্ত্রণালয়ের একক কোনো ক্ষমতা নেই।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, প্রশাসনের অন্যান্য ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হলেও বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে সেই ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ নেই, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতারই প্রতিফলন।