ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইরানের সব বন্দর আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাত থেকে অবরোধ করার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, মার্কিন এই পরিকল্পনায় তারা যোগ দেবে না। অর্থাৎ হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অবরোধে যুক্তরাজ্য অংশগ্রহণ করবে না।
ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজের প্রবেশ ও বের হওয়া টেকাতে সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা থেকে শুরু হবে।
পাকিস্তানে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা না হওয়ায় তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ নৌবাহিনীর জাহাজ এবং সৈন্যদের ইরানের বন্দর অবরোধ করার কাজে ব্যবহার করা হবে না। তবে ব্রিটিশ মাইন অপসারণকারী জাহাজ এবং ড্রোন-প্রতিরোধী ব্যবস্থা ওই অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
ব্রিটিশ সরকারের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি সমর্থন করে যাচ্ছি, যা বিশ্ব অর্থনীতি এবং আমাদের দেশের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়ার জন্য অত্যন্ত জরুরি।’
এর আগে রোববার সন্ধ্যায় ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ১৩ এপ্রিল সকাল ১০টা (ইস্টার্ন টাইম) থেকে ইরানের সব বন্দরগামী ও বন্দর ত্যাগকারী জাহাজ এই অবরোধের আওতায় পড়বে। এতে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরসংলগ্ন বন্দরগুলোর সব ধরনের জাহাজ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তবে সেন্টকম জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে অন্য বন্দরে যাওয়া-আসা করা জাহাজের চলাচলে তারা বাধা দেবে না। এতে বোঝা যায়, আগের মতো পুরো প্রণালী অবরোধের হুমকি থেকে কিছুটা সরে এসেছে ওয়াশিংটন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ পরিকল্পনাকে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান কর্তৃপক্ষ। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরান হুমকির মুখে ‘নতি স্বীকার করবে না’।
মার্কিন অবরোধের ঘোষণার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে গালিবাফ লিখেছেন, ‘বর্তমান জ্বালানি তেলের দাম উপভোগ করে নিন। আপনাদের এই তথাকথিত অবরোধের কারণে শীঘ্রই আপনারা চার বা পাঁচ ডলারের পেট্রোলের অভাব বোধ করবেন।’ এই পোস্টে তেলের দাম আরও বাড়ার ইঙ্গিত বোঝা যায়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে হরমুজ প্রণালীর ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে তেহরান। বিশ্বব্যাপী তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথে পরিবাহিত হয়, যা এখন প্রায় অচল অবস্থায় রয়েছে।
ইরান নিজের জাহাজ চলাচল চালু রেখেছে, পাশাপাশি অন্যান্য দেশের কিছু জাহাজকে সীমিতভাবে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে। যুদ্ধ শেষে টোল ব্যবস্থা চালুর কথাও বিবেচনা করছে দেশটি।
ট্রাম্পের অবরোধ হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, কোনো সামরিক জাহাজ কাছে এলে তা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। এই অবরোধ ঘোষণাকে ইসলামাবাদে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার সরাসরি ফল হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব