আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সোমবার সকাল ১০টা (১৪০০ GMT) থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ ও প্রস্থানকারী জাহাজে অবরোধ আরোপ করতে যাচ্ছে। যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।
ইরান ইতোমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তাদের বন্দর লক্ষ্যবস্তু করা হলে পারস্য উপসাগরের প্রতিবেশী দেশগুলোর বন্দরেও পাল্টা আঘাত হানা হতে পারে।
ছয় সপ্তাহ ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, সেটিও এখন হুমকির মুখে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি রয়েছে।
এদিকে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেন শুরু হলে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দ্রুত চালু হওয়ার কোনো লক্ষণ না থাকায় জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের এক সামরিক মুখপাত্র আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনে যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধকে ‘জলদস্যুতা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের বন্দর হুমকির মুখে পড়লে পারস্য উপসাগর বা ওমান উপসাগরের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না। একইসঙ্গে ইরানের বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির দিকে কোনো সামরিক জাহাজ এগোলে তা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
অন্যদিকে, লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। সোমবার দক্ষিণ লেবাননের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর দখলের লক্ষ্যে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করেছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলছে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে এ অভিযান যুদ্ধবিরতির আওতায় পড়ে না। তবে ইরান দাবি করছে, এটি যুদ্ধবিরতিরই অংশ।
পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি