রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: টবল ইতিহাসের কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা-এর মৃত্যু ঘিরে রহস্য উদঘাটনে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেস-এর ডিক লুজানে নিজ বাসভবনে ঘুমের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন এই বিশ্বখ্যাত ফুটবল তারকা। তবে তার মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল নাকি চিকিৎসাগত অবহেলার ফল এ প্রশ্ন ঘিরেই শুরু থেকেই বিতর্ক চলছে।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ম্যারাডোনার শরীরে অ্যালকোহল বা মাদকের উপস্থিতি না পাওয়া গেলেও তার হৃদপিণ্ড স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ আকারের ছিল বলে জানা যায়। এতে চর্বি জমাট ও রক্ত সঞ্চালনে গুরুতর জটিলতার প্রমাণ পান বিশেষজ্ঞরা।
মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর তিনি যখন টাইগ্রে উপশহরে পুনর্বাসন পর্যায়ে ছিলেন, তখন তার চিকিৎসায় নিয়োজিত সাত সদস্যের মেডিকেল টিমের বিরুদ্ধে গুরুতর অবহেলার অভিযোগ তোলে সরকারি কৌঁসুলিরা। অভিযোগে বলা হয়, মৃত্যুর ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।
এর আগে মামলাটি বিচারাধীন থাকাকালে দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণের পর বিচারক প্যানেলের এক সদস্যের অনৈতিক আচরণের অভিযোগে পুরো বিচার কার্যক্রম বাতিল করা হয়। ওই বিচারক একটি ডকুমেন্টারিতে অংশ নেওয়ায় তাকে অভিশংসনের মুখে পড়তে হয়।
নতুন করে শুরু হওয়া এই বিচার প্রক্রিয়ায় প্রায় ১২০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক, মনোবিজ্ঞানী ও নার্সসহ মোট সাতজন।
তাদের বিরুদ্ধে ‘সম্ভাব্য উদ্দেশ্যমূলক হত্যার’ অভিযোগ আনা হয়েছে। আর্জেন্টিনার আইনে এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের ৮ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
তবে অভিযুক্ত পক্ষ শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, ম্যারাডোনা দীর্ঘদিন মাদক ও অ্যালকোহল নির্ভর জীবনযাপন করছিলেন এবং তার মৃত্যু ছিল স্বাভাবিক শারীরিক জটিলতার ফল।
এদিকে পুরো ফুটবল বিশ্ব তাকিয়ে আছে এই মামলার দিকে, যেখানে নির্ধারিত হতে পারে ফুটবল কিংবদন্তির শেষ দিনগুলোর প্রকৃত সত্য।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম