আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে হঠাৎই সুর বদল করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক ইতালীয় পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি মেলোনিকে নিয়ে “হতবাক” বলে মন্তব্য করেছেন এবং তার সাহস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ইতালির দৈনিক Corriere della Sera-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মেলোনি তার প্রত্যাশার চেয়ে ভিন্ন আচরণ করেছেন এবং তিনি ভেবেছিলেন ইতালীয় এই নেতা আরও দৃঢ় অবস্থান নেবেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে সমর্থন না দেওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
আমি তার আচরণে হতবাক। আমি ভেবেছিলাম তার সাহস আছে,আমি ভুল ছিলাম,সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
এর আগে মেলোনি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ইউরোপীয় মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন তিনি। পাশাপাশি পোপ লিওকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যকেও “অগ্রহণযোগ্য” বলে নিন্দা জানান।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বলেন, অগ্রহণযোগ্য তো তিনি নিজেই, কারণ তিনি ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র পাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে চিন্তিত নন,যা সুযোগ পেলে ইতালিকে মুহূর্তেই ধ্বংস করতে পারে।
হোয়াইট হাউস ও মেলোনির দপ্তর কোনোটিই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি মেলোনির প্রতি ট্রাম্পের অবস্থানের একটি বড় পরিবর্তন। কারণ ২০২৫ সালে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত একমাত্র ইউরোপীয় নেতা ছিলেন মেলোনি। এমনকি গত মাসেও ট্রাম্প তাকে “দারুণ নেতা” বলে প্রশংসা করেছিলেন।
তবে এখন ট্রাম্প অভিযোগ করছেন, জ্বালানি নিরাপত্তা ও ইরান ইস্যুতে ইতালি যুক্তরাষ্ট্রকে যথেষ্ট সমর্থন দিচ্ছে না এবং ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভর করছে।
ইতালির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬৬ শতাংশ ইতালীয় নাগরিক ট্রাম্পকে নেতিবাচকভাবে দেখেন। বিশ্লেষকদের মতে, মেলোনির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দেশটির সাম্প্রতিক গণভোটে পরাজয়ের পেছনেও ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে ইরান যুদ্ধের কারণে ইতালিতে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। আমদানি-নির্ভর এই দেশটির অর্থনীতিতে এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি