আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত কঠোর নৌ-অবরোধ ভাঙতে না পেরে হরমুজ প্রণালিতে ফিরে গেছে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেলবাহী জাহাজ ‘রিচ স্টারি’। সাম্প্রতিক এই ঘটনায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
শিপিং তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) পারস্য উপসাগর ত্যাগের চেষ্টা করলেও পরদিন জাহাজটি আবার হরমুজ প্রণালীতে ফিরে আসে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেন।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অবরোধ কার্যকর হওয়ার প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কোনো জাহাজ মার্কিন বেষ্টনী অতিক্রম করতে পারেনি। অন্তত ছয়টি জাহাজ মার্কিন বাহিনীর নির্দেশে ঘুরে গিয়ে ইরানি বন্দরে ফিরে গেছে।
এদিকে ওমান উপসাগরে অবস্থিত চাবাহার বন্দর থেকে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার বের হওয়ার চেষ্টা করলে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ সেগুলোকে বাধা দেয়। চীনা মালিকানাধীন ‘রিচ স্টারি’ ওই সময় জলপথ অতিক্রমের চেষ্টা করা আটটি জাহাজের একটি ছিল, যা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।
সাংহাইভিত্তিক সুয়ানরুন শিপিং কোম্পানির মালিকানাধীন এই ট্যাংকারটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দর থেকে প্রায় আড়াই লাখ ব্যারেল মিথানল বহন করছিল। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকার কারণে জাহাজটি এবং এর মালিক প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
অন্যদিকে এলএসইজি’র তথ্য অনুযায়ী, ‘অ্যালিসিয়া’ নামের আরও একটি বড় তেলবাহী ট্যাংকার বুধবার হরমুজ প্রণালি হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে। প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই জাহাজটি ইরাক থেকে তেল বোঝাইয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে বলে জানা গেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জাহাজ মালিক, তেল কোম্পানি ও যুদ্ধঝুঁকি বিমাকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর আগে এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টির বেশি জাহাজ চলাচল করত। এখন সেই সংখ্যা অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর কঠোর অবস্থান বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে এবং আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করেছে। রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/এসসি