আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে শর্তসাপেক্ষ নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির ক্ষমতাসীন সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, জাহাজগুলো যদি প্রণালির ওমান অংশ ব্যবহার করে চলাচল করে, তবে সেগুলোর ওপর হামলা চালাবে না ইরান।
তবে এ প্রস্তাব কার্যকর করতে শর্ত জুড়ে দিয়েছে তেহরান। ইরানি সূত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো মেনে নিতে প্রস্তুত থাকে, তবেই এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। প্রণালীর উত্তর তীরে ইরান এবং দক্ষিণে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অবস্থান করছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন হয়, ফলে এর কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর জ্বালানি আমদানির বড় অংশও এই পথনির্ভর।
স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করে। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ জারি করলে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়। এতে তেলবাহী জাহাজগুলোকে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহে প্রভাব ফেলছে।
এদিকে অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালীতে শত শত জাহাজ আটকা পড়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, বর্তমানে কয়েকশ’ জাহাজ ও দুই হাজারের বেশি নাবিক সেখানে আটকা অবস্থায় রয়েছেন।
বিশ্বজুড়ে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ স্বাভাবিক করার দাবি জোরালো হচ্ছে। গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পর ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা ছিল অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়।