মাদারীপুর প্রতিনিধি: মাদারীপুরে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে শহরের পানিছত্র এলাকায় কে. আই হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে হাসপাতালটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে দেয়।
মারা যাওয়া রোগীর নাম বিলকিস বেগম (৪৫)। তিনি সদর উপজেলার ছিলারচর ইউনিয়নের রঘুরামপুর এলাকার সিরাজ আকনের স্ত্রী। বুধবার রাত ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত ৮টার দিকে পিঠে একটি ফোঁড়া অপারেশনের জন্য বিলকিস বেগম কে. আই হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসক আহসান হাবিব তার অপারেশন করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জ্ঞান না ফিরলে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পথে তার মৃত্যু হলে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে পুনরায় মাদারীপুরে ফিরে আসেন।
এরপর বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে রোগীর স্বজন ও এলাকাবাসী হাসপাতালে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নিচতলায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা হাসপাতালের সামনে মাদারীপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে চিকিৎসকের বিচার ও হাসপাতাল বন্ধের দাবি জানান। এতে প্রায় আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
পরে সদর মডেল থানার পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হাসপাতালটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।
নিহতের স্বজন হাসান মাতুব্বর বলেন, “সামান্য একটি ফোঁড়া অপারেশন করতে গিয়ে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আমরা মনে করি, এখানে চিকিৎসায় অবহেলা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
তবে হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা তৌকির হাসান সোহেল বলেন, “রোগীর ফোঁড়ায় পচন ধরেছিল এবং নিয়ম অনুযায়ী অপারেশন করা হয়েছে। পরে আইসিইউ সুবিধার প্রয়োজন হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। মৃত্যুর পর স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছে।”
এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, রোগীর মৃত্যু ও ভাঙচুরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ভর্তি রোগীদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।