ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: বাংলাদেশ ডক্টর অব অ্যাসোসিয়েশনের (ড্যাবের) ফরিদপুর জেলা শাখার প্রস্তাবিত সদস্য সচিব ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানসীভ জুবায়ের নাদিম শ্রেষ্ঠ ইউএইচএফপিওর পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে শ্রেষ্ঠ ইউএইচএফপিও পুরস্কারে উচ্ছ্বসিত আনন্দে ভাসছে চিকিৎসক সমাজ ও এলাকাবাসী।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ইউএইচএফপিও সম্মেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে এসম্মাননা পুরস্কার গ্রহণ করেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য বিভাগ কতৃক আয়োজিত উপজেলা স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়ন ক্যাটাগরিতে সারাদেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ইউএইচএফপিও গৌরব অর্জনে এপুরস্কারে ভূষিত হন।
ডা. তানসীভ জুবায়ের ভাঙ্গা উপজেলার পৌর সদরের কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের সন্তান। তার পিতা আজগর আলী জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র আইনজীবী এবং তার দাদা মরহুম এডভোকেট সরোয়ারজান মিয়া ছিলেন জেলা বিএনপির প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সভাপতি।
ডা. নাদিম ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। চাকরির সুবাদে এবং উপজেলার সন্তান হিসেবে তিনি চিকিৎসা সেবায় রোগীদের কাছে বেশ সুনাম অর্জন করেন। বিশেষ করে হাসপাতালের চিকিৎসক সংকটসহ বিবিধ সমস্যার মধ্যে দিয়েও তিনি নিজের টিম সদস্যদের সার্বিক সহযোগিতায় সুচিকিৎসায় অবিচল দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকে।
উল্লেখ্য ভৌগলিক কারণে মহাসড়কের নেটওয়ার্কের আওতাধীন দক্ষিণাঞ্চলের একুশ জেলার প্রবেশদ্বার বিধায় ঘটনা বা দুর্ঘটনায় চিকিৎসার ক্ষেত্রে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সকলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানে স্বীকৃত। প্রতিনিয়ত ঘটা ও দুর্ঘটনায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত সকল চিকিৎসকগণ বিশেষত সেবা দান করে আসছেন রোগীদের।
২০০৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ভাঙ্গা উপজেলায় সফরকালে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ঘোষণা দিয়ে উন্নীত করেন। পরবর্তীতে নতুন ভবন নির্মাণ করার পর আধুনিক চিকিৎসা সেবার ছোঁয়া লাগে। হাসপাতালের বহির বিভাগে প্রতিদিন রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। এছাড়াও শিশুসহ বিবিধ রোগীদের মধ্যে শতাধিক ভর্তি রোগীর চিকিৎসা সেবার সুব্যবস্থাও রয়েছে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মোট পদ ২৩৫টি। পূরণকৃত পদে ১৮০ জন কর্মরত রয়েছে। শূন্য পদ ৫৫ জনের মধ্যে চব্বিশজন মেডিকেল অফিসার তেত্রিশজন সেবিকাসহ অন্যান্য কর্মচারীদের সমন্বয়ে জরুরী রোগীদের সেবাদানের পাশাপাশি স্থানীয় রোগীরদের স্বাস্থ্য সেবায় কর্মরতরা দায়িত্ব পালন করছেন।
কর্তব্যরত চিকিৎসকদের মধ্যে ২৪ জন। নার্স ৩৫ জনের মধ্যে ৩৩ জন কর্মরত রয়েছেন। রক্ত, প্রস্রাব, ও যক্ষাসহ বেশীরভাগ পরীক্ষা হাসপাতালের অভ্যন্তরে ব্যবস্থা রয়েছে। শিশু ও গাইনী বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকলেও সার্জারি ও এনেস্থিয়ান,স্কিন ও কার্ডিওলজি, চক্ষু ও দন্ত বিভাগসহ প্রসূতি মায়ের অপরাশেন কার্যক্রম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালু রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টতা জানিয়েছেন।
হাসপাতালের আউটডোর রোগী আসমা সিদ্দিকা বলেন, পাঁচ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে ডাক্তারের কাছে গিয়ে ছিলাম। তিনজন বড় ডাক্তার তাঁকে দেখেছেন। পরে হাসপাতালের টিকিটের উপর ওষুধ লিখে দেওয়ার পর ওষুধ নিয়ে বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন বলে জানান পঞ্চাশ ঊর্ধ্ব বয়সী বৃদ্ধা।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনী চিকিৎসক ডা. শারমিন সুইট তানসীভ জুবায়ের নাদিমের শ্রেষ্ঠ ইউএইচএফপিওর পুরস্কারে ভূষিত হওয়ায় তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, চিকিৎসক সমাজের জন্য অত্যন্ত গৌরবের সম্মানা স্মারক পুরস্কার। চিকিৎসক সংকটের মধ্যেও আমাদের সম্মানিত স্যারের একটি চাওয়া জনগনসেবাদান এবং স্বীয় কর্মস্থলের সমস্যা সমাধানের মধ্যে দিয়ে স্বাস্থ্য সেবায় অগ্রগতির উন্নয়ন করতে হবে।
ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, চিকিৎসা সেবার উন্নয়নে বদ্ধপরিকর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার হাতে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন ডা. তানসীভ জুবায়ের শ্রেষ্ঠ ইউএইচএফপিওর পুরস্কারে ভূষিত হওয়ার গৌরব গোটা উপজেলাবাসীর।
ডা. তানসিভ জুবায়ের নাদিম বলেন, সারাদেশের ৪৩৫ টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ তার জীবনের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন। ২০২৪ সালে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনি যোগদানের পর স্বাস্থ্য সেবা গ্রহীতার সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার। ২০২৫ সালে ৪০ হাজারে গিয়ে পৌঁছেছে যা ১৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু