এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার সিডনি আদালতে হলিউড অভিনেত্রী রিবেল উইলসনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানহানি মামলার প্রথম দিনের শুনানিতে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, উইলসন এক তরুণী অভিনেত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবি করেছেন যা ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ক্ষতিকর।
মামলার বাদী অস্ট্রেলিয়ান অভিনেত্রী চার্লট ম্যাকইনেস দাবি করেছেন, উইলসন ইনস্টাগ্রামে এমন মন্তব্য করেন যাতে বোঝানো হয় যে তিনি একটি অস্বস্তিকর ঘটনার অভিযোগ করেছিলেন, পরে তা নিজের ক্যারিয়ার সুবিধার জন্য প্রত্যাহার করেছেন যা তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ২০২৩ সালের একটি ঘটনা। আদালতকে জানানো হয়, সিডনির বন্ডাই বিচে প্রযোজক অ্যামান্ডা ঘোস্টের সঙ্গে সাঁতার কাটার পর ম্যাকইনেস ও ঘোস্ট একটি বাসায় ফিরে একটি স্নানঘরে (বাথটাব) অবস্থান করেন, যেখানে তারা পোশাক পরা অবস্থায় ছিলেন এবং শারীরিকভাবে কোনো অস্বস্তিকর সংস্পর্শ হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
ম্যাকইনেসের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, তিনি কখনোই উইলসনকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাননি। বরং উইলসন পরবর্তীতে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দেন, যা তার সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছে।
অন্যদিকে উইলসনের আইনজীবী দাবি করেছেন, ম্যাকইনেস ঘটনার বিষয়ে অসংগত বক্তব্য দিয়েছেন এবং পরে তা অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, এটি তার ক্যারিয়ার অগ্রগতির কৌশলের অংশ হতে পারে।
আদালতে উপস্থাপিত বার্তা ও ইমেইলে দেখা যায়, ঘটনাটি নিয়ে উইলসন, প্রযোজক ও ম্যাকইনেসের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছিল। পরবর্তীতে একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে উইলসন লেখেন, অভিযোগ প্রত্যাহারের বিষয়টি তার ক্যারিয়ার অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
ম্যাকইনেস আদালতে দাবি করেছেন, এই মন্তব্যগুলো তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং তিনি ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন।
এদিকে উইলসন বর্তমানে আরও দুটি পৃথক আইনি মামলার মুখোমুখি রয়েছেন, যার একটি চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট চুক্তি বিরোধ এবং অন্যটি যুক্তরাষ্ট্রে মানহানি সংক্রান্ত।
সিডনির এই বিচার কার্যক্রম প্রায় নয় দিন চলবে বলে জানা গেছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি