কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পারিবারিক বিরোধের জেরে আপন ছোটো ভাই বড় ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত রাশেদ শেখ (৩০) উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকার রবিউল শেখের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মধ্যে রাতে ঘরের বারান্দায় বসে মোবাইল দেখছিলো রাশেদ শেখ। এসময় পিছন থেকে এসে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায় ছোটো ভাই জহুরুল শেখ (২৮)।
স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে রোজার ঈদের মধ্যে জহুরুল ৫ হাজার টাকা টাকা চেয়েছিলো তার বড় ভাইয়ের কাছে। সেই টাকা না দেওয়ার কারনে কুপিয়ে হত্যা করা হতে পারে বলে ধারণা নিহতের স্ত্রী। স্থানীয়রা বলছেন নেশাগ্রস্ত থাকতেন জহুরুল।
নিহত রাশেদ শেখের তৃতীয় শ্রেনীতে পড়ুয়া ছেলে রাফি (রাখেশ) জানায়, আম্মু সেসময় ওয়াশরুমে ছিলো" (কাকু) জহুরুল এসে পিছন থেকে হাসুয়া দিয়ে বাবাকে কোপাতে থাকে আমরা চিৎকার চেচামেচি শুরু করলে কাকু দৌড়ে পালিয়ে যায়।
নিহতের স্ত্রী লাকি খাতুন বলেন, পারিবারিক ভাবে আমাদের মধ্যে তেমন কোনো ঝামেলা ছিলোনা। আমার স্বামী গতকাল রাত নয়টার দিকে বাড়িতে আসছে " তিনি ফেরিতে করে ব্যবসার জন্য বরিশালে থাকে। সেখান থেকে ২০ দিন পরে গতকাল বাড়িতে আসছে। রাত বারোটার পরে আমি ওয়াশরুমে গিছিলাম, আমার মোবাইল দিয়ে আমার স্বামী রাশেদ তখন বারান্দায় বসে মোবাইল দেখছিলো। আমি ওয়াশরুম থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে বাহিরে এসে দেখি রক্তাক্ত হয়ে পড়ে আছে। এঘটনায় সুষ্ঠু বিচার চাই।
নিহত রাশেদের মা সবুরা খাতুন বলেন, আমিতো বাবা বাড়িতে ছিলাম না। কিভাবে কি হলো আমি কিছুই জানিনা।
অভিযুক্ত জহুরুল শেখের স্ত্রী আলো খাতুন জানান, আমার স্বামী কাজ করেনা এজন্য আমি বাড়িতে থাকিনা। তিনি নেশা করে, এর আগে ৫ হাজার টাকার জন্য আমার শাশুড়ীর সাথেও ঝামেলা হয়েছিলো। বিভিন্ন সময়ে ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করে নেশা করে। কি কারনে হত্যা করলো তা আমি জানিনা।
এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, পুলিশের ধারণা পারিবারিক কলহের জেরে হত্যাকান্ড হতে পারে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে আছে। পুলিশ এ ব্যপারে কাজ করছে।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু