রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশে বর্তমানে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা গড়ে ১৫ হাজার মেগাওয়াট, যার বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুতের অভাব এখন লোডশেডিং দিয়ে পোষাতে হচ্ছে।
গত বছর পর্যন্ত এ মৌসুমে কোন লোডশেডিং ছিলো না। তবে চলতি বছর ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আমদানিকৃত জ্বালানি পণ্যের সাপ্লাই চেনে ব্যাঘাত ঘটে। ফার্নেস তেল, কয়লার মূল্য বেড়ে যাওয়া এবং এলএনজি আমদানি ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি সংকটে ভুগছে দেশের অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র।
দেশে অবস্থিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৮৮ শতাংশ তেল, গ্যাস ও কয়লানির্ভর। তবে বর্তমানে জ্বালানি সংকটে ১৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র ১০টি ও তেলভিত্তিক কেন্দ্র ৮টি। এছাড়া ১৩৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে উৎপাদন কমে গেছে ৩৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের। এর মধ্যে গ্যাসভিত্তিক ৯টি, তেলভিত্তিক ২৪টি ও কয়লাচালিত কেন্দ্র রয়েছে ২টি।
বন্ধ থাকা ১৮ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো হলো—
গ্যাসভিত্তিক : ঘোড়াশাল রিপাওয়ারড ইউনিট ৪, ঘোড়াশাল টিপিপি ইউনিট ৫, ঘোড়াশাল ৩৬৫ মেগাওয়াট, ঘোড়াশাল ১০৮ মেগাওয়াট, মেঘনাটঘাট ৩৩৫ মেগাওয়াট, সিদ্ধিরগঞ্জ ২১০ মেগাওয়াট, মেঘনাঘাট ৫৮৩ মেগাওয়াট, জেরা মেঘনাঘাট ৭১৮ মেগাওয়াট, বাঘাবাড়ী ৭১ মেগাওয়াট, সিরাজগঞ্জ ২২৫ মেগাওয়াট।
তেলভিত্তিক : গাগনগর ১০২ মেগাওয়াট, মেঘনাঘাট ১০৪ মেগাওয়াট, জুলদাহ ১০০ মেগাওয়াট, জুলদাহ ২ ইউনিট ১০০ মেগাওয়াট, জঙ্গলিয়া ৫২ মেগাওয়াট, ফেনী লঙ্কা পাওয়ার, রূপসা ১০৫ মেগাওয়াট, নাটোর ৫২ মেগাওয়াট।
দেশে অবস্থিত ১৩৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২৯ হাজার ২৬৯ মেগাওয়াট। যদিও বছরের পুরোটা সময় এ সক্ষমতার অর্ধেক কাজে লাগে। এবছর ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে ১৩ হাজার ৭৩২ মেগাওয়াট, যেখানে চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৫৫২ মেগাওয়াট।
বিপিডিবি বলছে, মোট উৎপাদনের বিপরীতে লোডশেডিং করা হয়েছে ১৪৮২ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ঢাকায় সবচাইতে বেশি, ৩৬০ মেগাওয়াট লোডশেডিং। এছাড়া চট্টগ্রামে ১২০ মেগাওয়াট লোডশেডিং, খুলনায় ৩১৯ মেগাওয়াট, রাজশাহীতে ১৯৫ মেগাওয়াট, কুমিল্লায় ২১০ মেগাওয়াট, ময়মনসিংহে ৮০ মেগাওয়াট, সিলেটে ২৫ মেগাওয়াট, বরিশালে ৯৫ মেগাওয়াট ও রংপুরে ৭৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লোডশেডিং করা হয়েছে। সার্বিক হিসেবে ঢাকার বাইরে লোডশেডিং হয়েছে ১১২২ মেগাওয়াট।
পিজিসিবির তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ঢাকা অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকায় পশ্চিমাঞ্চল গ্রিডের চাইতে পূর্বাঞ্চল গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ তুলনামূলক বেশি। ১৮ এপ্রিল পূর্বাঞ্চল গ্রিডে ১০ হাজার ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে, যার মধ্যে ঢাকাতেই সরবরাহ করা হয়েছে ৫৬১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৪২৫ মেগাওয়াট, কুমিল্লায় ১৩৭৮ মেগাওয়াট, ময়মনসিংহে ১০১৯ মেগাওয়াট ও সিলেটে ৫৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/সাইফ