ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: জেডি ভ্যান্স আবারও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনায় নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন, তবে এবার পরিস্থিতি আরও জটিল ও অনিশ্চিত। যুক্তরাষ্ট্র-এর উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি ইরান যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে পাকিস্তানে নতুন দফা আলোচনায় অংশ নিতে পারেন। তবে এখনো কোনো পক্ষই চূড়ান্তভাবে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেনি।
ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আলোচনার সময়সীমা মাত্র ২৪ ঘণ্টা, কারণ চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বুধবার শেষ হচ্ছে। যদি কোনো সমঝোতা না হয়, তাহলে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এর আগে এক দফা আলোচনায় ভ্যান্সকে তুলনামূলকভাবে ‘নরমপন্থী’ বা “
ভাল পুলিশ” হিসেবে দেখা হয়েছিল, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছিলেন কঠোর অবস্থানের (‘bad cop’) প্রতিনিধি। তবে সেই আলোচনাও কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দফার বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা আলাদা কক্ষে অবস্থান করলেও পাকিস্তান ও ওমান মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছিল। কিন্তু পারমাণবিক সীমাবদ্ধতা, হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ এবং তেল সরবরাহ নিয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি।
এবারও ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। একটি ইরানি সূত্র জানিয়েছে, তারা আলোচনায় যোগদানের বিষয়টি “ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে”, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, চুক্তি না হলে “কঠোর সামরিক পদক্ষেপ” নেওয়া হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনায় সফলতা পেলে ভ্যান্সের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী হবে। তাকে ভবিষ্যতে ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ বাড়তে পারে, যা এই সংকটকে আরও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল করে তুলছে।
সব মিলিয়ে, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত হবে আলোচনা শুরু হবে কি না, আর শুরু হলেও তা শান্তির দিকে যাবে নাকি নতুন করে যুদ্ধের দিকে পরিস্থিতি গড়াবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি