ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইরান–এর একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ‘‘সিলি সিটি’’ যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ ও সতর্কতা উপেক্ষা করে সফলভাবে দেশের জলসীমায় প্রবেশ করেছে বলে দাবি করেছে ইরানি সামরিক বাহিনী। ঘটনাটি নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, জাহাজটি আরব সাগর অতিক্রম করে নিরাপদে দক্ষিণ ইরানের একটি বন্দরে পৌঁছায়। ইরানি নৌবাহিনীর সহায়তায় এটি যাত্রা সম্পন্ন করে বলে দাবি করা হয়।
ইরানি সামরিক বাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একাধিক সতর্কতা সত্ত্বেও ট্যাঙ্কারটি সফলভাবে অবরোধ ভেঙে গন্তব্যে পৌঁছায়। তবে এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শিপিং পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ‘শ্যাডো ভেসেল’ বা গোপন বাণিজ্যিক জাহাজ এই অঞ্চলে মার্কিন নজরদারি এড়িয়ে চলাচল করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, অবরোধ শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পথ পরিবর্তনের জন্য।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকবে এবং দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কোনোভাবেই বাড়ানো হবে না।
ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হয়, তাহলে “অনেক বোমা পড়বে” এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।
অন্যদিকে ইরান অভিযোগ করেছে, অবরোধ ও সামরিক চাপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনাকে “আত্মসমর্পণের মঞ্চে” পরিণত করতে চাইছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, তারা হুমকির মধ্যে কোনো আলোচনায় অংশ নেবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের সামুদ্রিক রুটে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি