ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: হরমুজ প্রণালির কাছে আটক করা দুটি কনটেইনার জাহাজ ইরানের বন্দর আব্বাসের দিকে নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। জাহাজ দুটিতে প্রায় ৪০ জন নাবিক রয়েছেন, যাদের নিরাপত্তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বুধবার জাহাজ দুটি আটক করে। এর মধ্যে একটি বিশ্বের বৃহত্তম কনটেইনার পরিবহন প্রতিষ্ঠান এমএসসি পরিচালিত এবং অন্যটি ওই প্রতিষ্ঠানের চার্টার করা বলে জানা গেছে।
একজন নাবিকের স্বজন রয়টার্সকে বলেন, প্রায় ২০ জন ভারী অস্ত্রধারী ইরানি সদস্য জাহাজে অভিযান চালায়। নাবিকদের চলাফেরা সীমিত করা হয়েছে, তবে তাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করা হচ্ছে।
মন্টেনেগ্রোর সামুদ্রিক বিষয়ক মন্ত্রী ফিলিপ রাডুলোভিচ জানিয়েছেন, জাহাজটি ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ৯ নটিক্যাল মাইল দূরে নোঙর করা রয়েছে এবং এমএসসি ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, আমাদের নাবিকরা নিরাপদে আছেন।
জানা গেছে, ‘এমএসসি ফ্রানচেসকা’ জাহাজে মন্টেনেগ্রোর চারজন নাবিক, যার মধ্যে ক্যাপ্টেনও রয়েছেন। এছাড়া দুইজন ক্রোয়েশিয়ান নাবিকও রয়েছেন বলে ক্রোয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘এপামিনোন্দাস’ জাহাজে ২১ জন নাবিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে ইউক্রেন ও ফিলিপাইনের নাগরিকরা রয়েছেন। জাহাজটি ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল।
দুটি জাহাজের ট্র্যাকিং ট্রান্সপন্ডার বন্ধ থাকলেও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র বলছে, জাহাজগুলো সম্ভবত বন্দর আব্বাসের কাছাকাছি অবস্থান করছে। জাহাজগুলোর বহনকৃত পণ্যের বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, জাহাজ আটকের ঘটনার আগে গত ১৯ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পতাকাবাহী ‘তৌসকা’ নামের একটি কার্গো জাহাজে হামলা চালিয়ে সেটি জব্দ করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান দ্রুত প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেয়।ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই জাহাজ, এর নাবিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে।
এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আবারও বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ছিল প্রায় ৭২ ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানি বন্দরগামী জাহাজের ওপর আরোপিত অবরোধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩১টি জাহাজকে পথ পরিবর্তন বা ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি