রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে প্রবাসী আয়ের ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ। চলতি বছরের মার্চে রেমিট্যান্স নতুন রেকর্ড গড়ার পর এপ্রিলেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। মাত্র ২২ দিনেই দেশে এসেছে প্রায় সাড়ে ২৯ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২.৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১২২ টাকা) অনুযায়ী যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৯ হাজার ৪৮৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা টাকার অঙ্কে প্রায় ৪ হাজার ৪৪০ কোটি টাকার বেশি।
এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসে। এছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স ছিল ২০২৫ সালের মার্চে ৩.২৯ বিলিয়ন ডলার এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৩.২২ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসে, যা তালিকায় চতুর্থ।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এর বিনিময় হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রবাসীরা দেশে অর্থ পাঠিয়ে তুলনামূলক বেশি টাকা পাচ্ছেন, যা রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতির পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তাই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
সব মিলিয়ে, প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক এই প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম