ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ভারতগামী দুটি জাহাজ আটক করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। জাহাজ দুটিকে ঘিরে ফেলে ‘গানার বোট’ থেকে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে, যদিও এ বিষয়ে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু স্বীকার করেনি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ এবং ‘এপামিনোডস’ নামের দুটি জাহাজ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করছিল। এ সময় ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি) অভিযান চালিয়ে জাহাজ দুটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।
প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দ্রুতগতির নৌযানে করে ইরানি বাহিনী জাহাজের কাছে পৌঁছে দড়ির সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে দখল নিচ্ছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থার সূত্রের দাবি, ‘এপামিনোডস’ জাহাজটিকে লক্ষ্য করে ইরানি নৌযান থেকে গুলি ও রকেট ছোড়া হয়। যদিও আইআরজিসি এ ধরনের হামলার কথা অস্বীকার করেছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, অভিযান চালানোর আগে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে জাহাজ কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা পূর্বানুমতি নিয়েই প্রণালিতে প্রবেশ করেছিল।
জানা গেছে, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘এপামিনোডস’ জাহাজে ২১ জন নাবিক রয়েছেন, যাদের অধিকাংশই ইউক্রেনের নাগরিক। আর পানামার পতাকাবাহী ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ জাহাজটিতেও গুলি চালানোর অভিযোগ থাকলেও এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং নাবিকরা নিরাপদে আছেন বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাস পরিবহন এই প্রণালি দিয়ে হয়ে থাকে, ফলে যেকোনো ধরনের সংঘাত আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আনন্দবাজার
রিপোর্টার্স২৪/এসসি