ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইউক্রেনকে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা হিসেবে ৯০ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১০৫ বিলিয়ন ডলার) ঋণ এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে ২০তম দফা নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
ইইউ নেতাদের অনানুষ্ঠানিক সম্মেলনের আগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্মেলনে অংশ নিতে সাইপ্রাসে পৌঁছান এবং ইইউ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেন।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লায়েন বলেন, “আমরা ভালো খবর নিয়ে সাইপ্রাস যাচ্ছি। রাশিয়া যখন আগ্রাসন বাড়াচ্ছে, আমরা ইউক্রেনকে সমর্থন আরও জোরদার করছি এবং রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছি।”
এই ঋণের মাধ্যমে আগামী দুই বছরে ইউক্রেনের প্রয়োজনীয় অর্থের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পূরণ হবে বলে জানানো হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সহায়তা না এলে জুন মাস থেকেই ইউক্রেনের অর্থ সংকট দেখা দিতে পারত, যার ফলে সরকারি সেবা কাটছাঁটের ঝুঁকি তৈরি হতো।
অনুমোদিত ৯০ বিলিয়ন ইউরোর অর্ধেক চলতি বছর এবং বাকি অংশ ২০২৭ সালে দেওয়া হবে। এর বড় অংশ সামরিক খাতে ব্যয় করা হবে, পাশাপাশি প্রায় ১৭ বিলিয়ন ইউরো স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ বলেন, এই সহায়তা তাদের সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করবে এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনে সহায়তা করবে। তিনি আরও জানান, রাশিয়ার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে ২০তম দফা নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ অনুমোদন করেছে, যা রাশিয়ার অর্থনীতি ও যুদ্ধ সক্ষমতার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে।
এই সিদ্ধান্তের আগে ইইউ সদস্য দেশ হাঙ্গেরির ভেটোর কারণে কয়েক মাস ধরে ঋণ অনুমোদন আটকে ছিল। তবে বুধবার ভেটো প্রত্যাহারের পর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন সম্ভব হয়।
সাইপ্রাস সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধ ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানি সংকট এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দীর্ঘমেয়াদি বাজেট নিয়ে আলোচনা হবে। এতে মিশর, জর্ডান, লেবানন, সিরিয়া এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (GCC) নেতারাও অংশ নেবেন।
ইউরোপীয় কমিশন সম্প্রতি বিদ্যুৎ কর কমানো এবং গ্যাস মজুত সমন্বয়ের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলার অংশ। তবে গ্যাসের মূল্য নিয়ন্ত্রণ বা জ্বালানি কোম্পানির অতিরিক্ত মুনাফার ওপর কর আরোপের মতো কঠোর পদক্ষেপ আপাতত নেওয়া হচ্ছে না।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি