আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করেছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, রণতরীটি বর্তমানে ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে এবং ধীরে ধীরে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগোচ্ছে। তবে এটি আগে থেকে মোতায়েন থাকা নৌবহরের সঙ্গে যুক্ত হবে নাকি অন্য কোনো রণতরীর স্থলাভিষিক্ত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড এখনও লোহিত সাগরে অবস্থান করছে। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, এটি মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের অধীনে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র নৌ-উপস্থিতি বাড়াচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হয়। ফলে এ অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ওয়াশিংটন।
এদিকে ভারত মহাসাগরে অভিযান চালিয়ে ইরানের তেল পরিবহনকারী একটি জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে ‘এমটি ম্যাজেস্টিক এক্স’ নামের জাহাজটিতে তল্লাশি ও নিয়ন্ত্রণ অভিযান চালানো হয়। তিন দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয় এমন অভিযান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ‘রাষ্ট্রহীন’ ওই জাহাজে অভিযান চালানো হয় এবং বোর্ডিং অপারেশন সম্পন্ন করা হয়। জাহাজটি ইরানের পক্ষে তেল পরিবহনসহ ‘উপাদানগত সহায়তা’ দিচ্ছিল বলেও দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপথে আইন প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে, যাতে অবৈধ নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া যায় এবং ইরানকে সহায়তাকারী জাহাজগুলোকে যে কোনো স্থানে আটকানো সম্ভব হয়। অভিযানের একটি ভিডিওও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে হেলিকপ্টার থেকে মার্কিন সেনাদের একটি বড় ট্যাংকারের ডেকে নামতে দেখা যায়।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, অভিযানটি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের দায়িত্বাধীন এলাকায় হয়েছে, যা প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরীয় বিস্তৃত অঞ্চল তদারকি করে। তবে নির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।