স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকাল ৪ টায় রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে কিছুসংখ্যক কর্মী নিয়ে এনসিপিতে যোগ দেন তিনি।
এনসিপি সূত্রে জানা যায়, ইসহাক সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে এনসিপিতে। সংগঠনটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হবে। এ জন্য বর্তমান আহ্বায়ক আলাউদ্দিন মোহাম্মদ পদত্যাগ করবেন।
আলাউদ্দিন মোহাম্মদ জানিয়েছেন, রাজধানীতে এনসিপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে ইসহাক সরকারের মতো নেতা প্রয়োজন। তাই তিনি আহ্বায়কের পদ ছেড়ে দিচ্ছেন।
এনসিপিতে যোগদান সম্পর্কে ইসহাক সরকার বলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার যে আদর্শ নিয়ে বিএনপির রাজনীতি, এখন সেই আদর্শ বিএনপিতে দেখা যাচ্ছে না। সেই আদর্শ এনসিপির মধ্যে দেখা যাচ্ছে। সে জন্যই তার এনসিপিতে যোগদান। মহানগর দক্ষিণের দায়িত্ব নেবেন তিনি।
ছাত্রদল ও যুবদল—দুই সংগঠনেই সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন ইসহাক সরকার। আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ইসহাক তিন শতাধিক মামলায় আসামি হয়েছিলেন। এর মধ্যে রাজধানীর বংশাল ও কোতোয়ালি থানার পৃথক দুটি নাশকতার মামলায় তাকে দুই বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। গত বছরের নভেম্বরে সেই দুটি মামলায় তাকে খালাস দেন আদালত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন ইসহাক সরকার। কিন্তু দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি। পরে ফুটবল প্রতীকে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হন ইসহাক। সংসদ নির্বাচনের সপ্তাহখানেক আগে তাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। নির্বাচনের পর এবার তিনি এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন।
এদিন ইসহাক সরকারের পাশাপাশি এনসিপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর নূরুজ্জামান কাফি, মহিউদ্দিন রনি ও মাসুদুর রহমান সোহেল।
এর আগে মহিউদ্দিন রনি গণমাধ্যমে বলেন, ‘এনসিপিকে ভালোবাসি। এনসিপিতে যোগদান-ইনশাআল্লাহ, দেখা যাক। রাত ১২টা পর্যন্ত ভাবছি। ভালোই হবে।’
এদিকে গত ১৯ এপ্রিল রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আপ বাংলাদেশ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৪৭ নেতাকর্মী একযোগে দলে যোগ দেন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করেন, কারও অতীত পরিচয় নয়, বর্তমান আদর্শ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তিই যোগদানের মানদণ্ড।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব