আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার রুমমেটকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। নিহত শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন-এর মরদেহ ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। অপর শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
স্থানীয় পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ রক্তের আলামত পাওয়ায় তদন্তকারীরা আশঙ্কা করছেন, নিখোঁজ বৃষ্টিও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে থাকতে পারেন।
এ ঘটনায় তাদের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘারবিয়াহ (২৬)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে শারীরিক হামলা, জোরপূর্বক আটকে রাখা, প্রমাণ নষ্ট করা, মৃত্যুর খবর গোপন রাখা এবং মৃতদেহ সরানোর মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, হিশাম আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন। ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে একাধিক সহিংসতার অভিযোগ ওঠে এবং গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। এমনকি তার পরিবারের পক্ষ থেকেও তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ করা হয় এবং একপর্যায়ে তার ওপর পারিবারিক সুরক্ষা নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।
গ্রেপ্তারের সময় নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ জানায়, হিশাম নিজেকে একটি বাড়ির ভেতরে আটকে রাখেন। পরে সোয়াট টিম মোতায়েন করা হলে প্রায় ২০ মিনিট পর তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
নিহত লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা-এ ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছিলেন বলে সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে দেশে ফিরে শিক্ষকতা করার ইচ্ছা ছিল তার। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নাহিদা বৃষ্টির সঙ্গে তার বিয়ের কথাও চলছিল।
গত ১৬ এপ্রিল লিমনকে সর্বশেষ তার বাসার বাইরে দেখা যায়। এর কিছুক্ষণ পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ভবনে বৃষ্টিকে শেষবারের মতো দেখা যায়। পরে দীর্ঘ সময় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় এক বন্ধু পুলিশকে বিষয়টি জানালে তদন্ত শুরু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, লিমনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ বৃষ্টির সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
এই ঘটনায় বাংলাদেশসহ প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোক নেমে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও শিক্ষার্থীদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি