স্টাফ রিপোর্টার: সরকার সাধারণ মানুষের নাগালে স্মার্টফোন পৌঁছে দিতে এর দাম আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘নতুন টেলিযোগাযোগ নীতিমালা: উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ তথ্য জানান।
উপদেষ্টা বলেন, ২০২৬ সালেও দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের হাতে স্মার্টফোন নেই, যা উদ্বেগজনক। বর্তমানে যেখানে একটি ফিচার ফোন ৯০০ থেকে ১,০০০ টাকায় পাওয়া যায়, সেখানে সবচেয়ে কম দামের স্মার্টফোনের মূল্য ৯,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা। এই ব্যবধান কমিয়ে আনতেই সরকার কাজ করছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক, মোবাইল অপারেটর, ডিভাইস নির্মাতা ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। লক্ষ্য হচ্ছে—কৃষক, দিনমজুর ও রিকশাচালকসহ নিম্নআয়ের মানুষও যেন সহজে স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারেন।
একইসঙ্গে সরকার ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট’ নীতি চালুর পরিকল্পনা করছে। এর আওতায় জন্মের পর থেকেই একজন নাগরিকের জন্য ডিজিটাল আইডি চালু হবে, যা একটি ডিজিটাল ওয়ালেটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এই ওয়ালেট ব্যাংকিং ও মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) সঙ্গে যুক্ত করা যাবে। দেশের ১৮ কোটি মানুষের জন্য এ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সেমিনারে মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড সেবার বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘সমষ্টিগত ব্যর্থতা’ হিসেবে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, এই খাতকে নতুনভাবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। ভোক্তা সেবা, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানোকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আগামীতে জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশে এফডিআই উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
টেলিযোগাযোগ খাতে উচ্চ কর কাঠামো পুনর্বিবেচনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বর্তমানে একজন গ্রাহক ১০০ টাকা রিচার্জ করলে প্রকৃত সেবা পান মাত্র ৬২ টাকার, বাকি ৩৮ টাকা কর হিসেবে চলে যায়। এতে গ্রাহক, অপারেটর ও ডিভাইস নির্মাতাদের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।
খাতটিকে টেকসই করতে ভারসাম্যপূর্ণ করনীতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে এমদাদ উল বারীসহ টেলিকম খাতের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪বাবি