রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-এর মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে সাপ্তাহিক কার্যক্রম, বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনগুলোতে সবুজায়ন, ল্যান্ডস্কেপিং ও সচেতনতামূলক গ্রাফিতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে সমন্বিত সার্কুলার ইকোনমিভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সংসদ অধিবেশন সকাল ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে মোট আটটি প্রশ্নের মধ্যে দুটি প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।
সবুজায়নের অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় সড়কের মিডিয়ান, দ্বীপ ও উন্মুক্ত স্থানে বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় নগর বনায়ন (মিয়াওয়াকি পদ্ধতি) চালু করা হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ গাছ লাগানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া মেট্রোরেলের নিচের খালি জায়গা (মিরপুর-১২ থেকে মিরপুর ডিওএইচএস) এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের অংশে (আব্দুল্লাহপুর থেকে ফার্মগেট) বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তার লিখিত বক্তব্যে জানান, পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ-এর সঙ্গে সমন্বয় করে আধুনিক বাস সার্ভিস চালু এবং ২৫০টি বৈদ্যুতিক বাস সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বায়ুদূষণ রোধে কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন, নির্মাণকাজ ও অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। সাভারকে ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণা করে সেখানে ইটভাটা ও উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য পোড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পাশাপাশি নদী ও জলাশয় দূষণ রোধে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৪৮টি প্রতিষ্ঠানে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণের জন্য ক্যামেরা স্থাপন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগ নদীসহ ১৯টি খালের দূষণের উৎসও চিহ্নিত করা হয়েছে।
ঢাকা শহরকে সবুজায়নের আওতায় আনতে বন অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের সমন্বয়ে বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর আওতায় ইতোমধ্যে ৪১ হাজারের বেশি ফলদ, বনজ ও শোভাবর্ধনকারী গাছ রোপণ করা হয়েছে।
এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকায় বনায়নযোগ্য সব খালি জায়গায় গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম