আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর নতুন অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিয়েছে তেহরান। দেশটির নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি দাবি করেছেন, এমন একটি অস্ত্র খুব শিগগিরই ব্যবহার করা হবে, যা শত্রুপক্ষকে “কাঁপন ধরিয়ে দেবে” যা হার্ট অ্যাটাকের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম Press TV-কে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা খুব শিগগিরই এমন একটি অস্ত্র ব্যবহার করব, যেটি শত্রুর খুব কাছেই রয়েছে এবং তারা সেটিকে গভীরভাবে ভয় পায়।
এই হুমকি আসে এমন সময়, যখন ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার ইরানের প্রস্তাব নাকচ করেন। তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
ইরানি কমান্ডার আরও দাবি করেন, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln-কে লক্ষ্য করে অন্তত সাতবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে কিছু সময়ের জন্য ওই রণতরী থেকে বিমান উড্ডয়ন ও সামরিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশলকেও ব্যর্থ বলে উল্লেখ করে বলেন, স্বল্প সময়ে লক্ষ্য অর্জনের যে ধারণা ছিল, তা এখন সামরিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে হাস্যরসের বিষয় হয়ে গেছে।
ইরান দাবি করেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে অন্তত ১০০ দফা পাল্টা হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে বন্ধ করে দিয়ে শত্রু ও তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
ইরানি কমান্ডার অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ জব্দ করে “জলদস্যুতা” ও “জিম্মি করার” মতো কাজ করছে। তিনি বলেন, আমেরিকানরা সোমালিয়ার জলদস্যুদের চেয়েও খারাপ।
অন্যদিকে ট্রাম্প বলেন, ইরানের ওপর নৌ অবরোধ বোমা হামলার চেয়েও কার্যকর এবং এটি আরও কঠোর করা হবে। তার ভাষায়, তারা কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারে না।
বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের এই কড়া অবস্থান ও পাল্টাপাল্টি হুমকিতে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি